র ছবি তুলতে ইচ্ছা করে না, কথা বল খারাপ লাগে। একুশে আগস্ট এলে আপনারা আসেন, তাই একটু কথা বলি। আজ মাহবুবের জন্য নেত্রী (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) বেঁচে আছেন। নেত্রীর জন্য আজ কতজন এমপি-মন্ত্রী হয়েছেন, সবাই যদি একবার করেও খোঁজ নেন, তা হলে তো আমার ছেলেরা অনেক ভালো থাকে। কিন্তু আওয়ামী লীগের কেউ তো খোঁজ নেয় না। প্রধানমন্ত্রীকে যেন আল্লাহ বাঁচিয়ে রাখেন, তিনি যদি চলে যান, আমাদের কষ্ট হবে, অনেক কষ্ট হবে। আমার একটু মাথা গোঁজার জায়গা নেই। আমার খুব কষ্ট হয়...’ কাঁদতে কাঁদতে কথাগুলো বলছিলেন ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহত মাহবুবুর রহমানের স্ত্রী শামীমা আক্তার আসমা। সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ল্যান্স করপোরাল মাহবুবুর রহমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মী ছিলেন। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলায় শেখ হাসিনার জন্য জীবন উৎসর্গ করেন মাহবুব। গ্রেনেড বিস্ফোরণের পর নিজের শরীরকে ঢাল বানিয়ে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনাকে মঞ্চ থেকে বুলেটপ্রুফ গাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দিয়ে গ্রেনেডের স্প্রিন্টার ও গুলির আঘাতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন মাহবুব। দুই ছেলে আশিকুজ্জামান আশিক ও আশরাফুজ্জামান আনাসকে নিয়ে মোহাম্মদপুরের একটি ৬তলা ভবনের দুই রুমের ফ্ল্যাটে থাকেন মাহবুবের স্ত্রী শামীমা আক্তার আসমা। গতকাল শনিবার দুপুরে আমাদের সময়ের সঙ্গে একান্তে কথা বলেন তিনি। মাহবুব ও তার স্ত্রী দুজনের বাড়িই কুষ্টিয়া জেলায়। ২১ আগস্ট দুপুরের স্মৃতিচারণ করে কুষ্টিয়ার আঞ্চলিক ভাষায় মাহবুবের স্ত্রী বলেন, ‘আপা বলতে অস্থির ছিল মাহবুব। দুপুরে বাসায় এসে ভাত খাচ্ছে। আমি ইলিশ মাছ রান্না করছি। একটার সময় ভাত খাচ্ছে। এরপর দেখি কাপড়চোপড় পরছে। আমি কলাম, আশিকের আব্বু কোথায় যাচ্ছো? কয় যে, আপার মিটিং আছে বিকালে। আপার কাছে যাচ্ছি সুধা সদনে। মিটিং কয়টায়? বলছে, ৫টায়। এখন দুটো বাজে, এখনি যাবা কেন? একটু শুয়ে থাকো, পরে যাও। বলছে, না। আপা যদি আগেই বের হয়ে যায়। আমি সুধা সদনে যেয়ে শুয়ে থাকতে পারব। তাই বলে বের হয়ে গেল। আমি আবার বললাম, আশিকের আব্বু, তাড়াতাড়ি চলে এসো। কয় আচ্ছা, চিন্তা করো না। সে তো বলে গেল, চিন্তা করো না, আমি আসবোনে। আর তো আসলো না। বিকাল হয়ে গেল, আসরের নামাজ পড়ে বসে আছি, আমাকে একজন বলছে যে, আপাÑ মাহবুব ভাই মারা গেছে। প্রধানমন্ত্রীর ওখানে গুলি করছে, গ্রেনেড মারছে, মাহবুব ভাই মারা গেছে। দেখেন...! আমি তাড়াতাড়ি করে সুধা সদনে গেলাম। যেয়ে দেখি যে নাই।’ এটুকু বলে অঝোরে কাঁদতে থাকেন শামীমা আক্তার আসমা। তিনি আরও বলেন, মাহবুব মারা যাওয়ার পর শ্বশুরবাড়ি গিয়েছিলাম, আমাকে বকে তাড়িয়ে দিয়েছে। আমার কোনো থাকার জায়গা নেই। আমার ভাই বাসাভাড়া দিচ্ছে, তাই ছেলে দুটোকে নিয়ে ঢাকায় আছি। আমি নিজেকে সাš¦Íনা দিই, ছেলে দুটো মানুষ হলে হয়তো এই কষ্টের জীবন শেষ হবে। আসমা বলেন, আপার (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) টাকা দিয়ে চাল-ডাল সংসারের খরচ চলে। আপা ছাড়া কেউ খবর নেয় না। কুষ্টিয়ার আজগর, সদর খান (আওয়ামী লীগ নেতা) তো বলেন আমরা মাহবুবের পরিবারের খোঁজখবর নিই। একমাত্র প্রধানমন্ত্রী ছাড়া আওয়ামী লীগের কোনো নেতা কখনো খবর নেননি। মাহবুবের কর্মকর্তা যারা সেনাবাহিনীতে আছেন তাদের অনেকেই উৎসবে-পার্বণে খোঁজখবর নেন। তিন বছর ঢাকায় আসার পর এই সুবিধাটা একটু পাচ্ছি। আসমার বড় ছেলে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজিতে অনার্স পড়ছে। ছোট ছেলে এবার উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় গোল্ডেন এ প্লাস পেয়ে পাস করেছে। আসমা বলেন, আজ ১২ বছর ওদের বাবা নেই, আমি এতদূর নিয়ে এসেছি ছেলে দুটোকে। আমার একটু দাঁড়ানোর জায়গা নেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি বেশ কয়েকবার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন আসমা।তিনি মনে করেন,প্রধানমন্ত্রী চাইলেই তাকে একটু মাথা গোঁজার জায়গাও দিতে পারেন।আসমা বলেন,একুশে আগস্টের হামলাকারীদের বিচার ও শাস্তি কার্যকর দেখতে চান তিনি।
