সিঙ্গাপুরে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর দুই কর্মকর্তাদের সঙ্গে কয়েক সপ্তাহ আগে বৈঠকে বসেছিলো বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের বেশ কয়েকজন নেতা। গোয়েন্দা সূত্র ব্যবহার করে লুকইস্ট এ খবর প্রকাশ করে। এ প্রসঙ্গে বিএনপির নেতৃবৃন্দর কাছে জানতে চাওয়া হলে তারা বিষয়টিকে বানোয়াট ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেয়। তারা জানায়, সরকার সকলকে শত্রু মনে করছে বলে এমন বানোয়াট গোয়েন্দা প্রতিবেদন তৈরি করছে।
গোয়েন্দা সূত্রে বলা হয়, জনরোষ সৃষ্টি ও ‘সাধারণ মানুষ’ তকমা ব্যবহার করে কিছু আওয়ামী লীগ নেতাকে হত্যার মাধ্যমে বর্তমান সরকারকে উৎখাতের পরিকল্পনা করছে বিএনপি। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে নতুন করে সহিংস কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে বিএনপি ও তার বৈধ-অবৈধ শরিক দলগুলো। যার মূল লক্ষ্য ‘জন অসন্তোষের নামে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের হত্যা’।
সাধারণ মানুষকে সরকারের বিভিন্ন ইস্যুতে উসকানি প্রদানের মাধ্যমে আন্দোলন চাঙ্গা করার পরিকল্পনা করছে বিএনপি। পূর্ববর্তী সহিংস আন্দোলনে সাধারণ মানুষ ও পাবলিক পরিবহনের ওপর হামলা চালিয়ে বিএনপি ও তার সহযোগীরা তীব্র সমালোচনার শিকার হওয়ায় এবার তাদের টার্গেট হবে আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ। আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা নষ্টের পাশাপাশি নির্বাচনী প্রচারণায় বাঁধা সৃষ্টির লক্ষ্যে বাছাইকৃত কিছু আওয়ামী লীগ নেতার ওপর হামলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। জানা যায়, ‘সাধারণ মানুষ’ সেজে আওয়ামী লীগ নেতাদের ওপর এই হামলা করা হবে।
গোয়েন্দা বিভাগের সূত্র অনুসারে, গত সপ্তাহে বিএনপির সিনিয়র কিছু নেতৃবৃন্দ সিঙ্গাপুরে সভা করে। সেখানে হাসিনা সরকারকে উৎখাতের নতুন পরিকল্পনা করা হয়। সভায় বিএনপির এই সিনিয়র নেতাদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলো আইএসআই-এর দুইজন কর্মকর্তা। এই বিষয়ে পরবর্তী আলোচনার জন্য চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে ব্যাংককে পুনরায় সভায় বসা হবে বলেও জানানো হয়।
সভার সিদ্ধান্ত অনুসারে, সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভিন্ন ইস্যুতে জনরোষ সৃষ্টির পরে পর্যায়ক্রমে আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন নেতাকে হত্যা করা হবে। পরবর্তীতে প্রচার করা হবে জনরোষের কারণে তাদের ওপর হামলা করে হত্যা করেছে ‘সাধারণ মানুষ’। এর মূল লক্ষ্য আওয়ামী লীগের প্রতি দৃঢ় প্রতিশ্রুতি বদ্ধ নয় এমন কর্মীদের নির্বাচনী কার্যক্রম থেকে বিচ্যুত করা।
এ প্রসঙ্গে বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ বলেন, বিষয়টি মনগড়া প্রতিবেদন। সরকারকে মনের রোগ পেয়েছে। এ জন্যই তারা বন্ধুকেও শত্রুর চোখে দেখছে। সিঙ্গাপুরে বিএনপি নেতাদের বৈঠকের বিষয়টিও তাদের মনগড়া। বিষয়টি নিয়ে তারা বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছে। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দদের কাছ থেকে এ ধরণের মনগড়া বক্তব্য কাম্য নয়।
অবশ্য লুকইস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, জনরোষ তৈরির পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিএনপি ইতোমধ্যে গণমাধ্যমে ও প্রশাসনের পেছনে প্রচুর অর্থ ব্যয় করেছে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই সময়ে এসকে সিনহা তার স্মৃতিচারণমূলক বই প্রকাশ করতে চাইছে। বিএনপি ও আইএসআই-এর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে শেখ হাসিনা সরকারকে উৎখাতের জন্য এই স্মৃতিচারণমূলক বইটি লেখা হচ্ছে যার অর্থায়নে রয়েছে জামায়াত ইসলাম।
Collected
মানবকণ্ঠ/আরএ
https://www.manobkantha.com/সরকার-উৎখাতের-নতুন-পরিকল/
