শুক্রবার, ৩১ আগস্ট, ২০১৮

মতামত দিন,আন্তর্জাতিক বিরোধ নিষ্পত্তি, রাম মন্দির বনাম বাবরি মসজিদ

মতামত দিন,আন্তর্জাতিক বিরোধ নিষ্পত্তি
√.Ra
m Mandir,
√.Babori Masjid
√.Both
=Submit
লিংক নিম্মে সংযুক্ত.............

অযোধ্যাতে রাম মন্দির ও বাবরি মসজিদের মধ্যে অমীমাংসিত বিরোধ নিষ্পত্তির চূড়ান্ত ফয়সালা ভারতীয়  কোর্ট জনগনের মতামতের উপর ছেড়ে দিয়েছে।

বিঃদ্রঃ-
এখানে জনগন বলতে শুধু ভারতীয় জনগন নয়(আপনিও আছেন,আমিও আছি)!
সারা বিশ্বের জনগনের রায়/মতামত প্রদানের সুযোগ রাখা হয়েছে' দীর্ঘ সময় ধরে চলমান #রাম_মন্দির√  Vs #বাবরি_মসজিদ মধ্যে অমীমাংসিত বিরোধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি........... ।

আপন ইচ্ছাতে আমিও একটা ভোট দিয়েছি।চাইলে আপনিও দিতে পারেন।নিম্নে দেওয়া লিংকে...................
Please click on the link below and vote for Babri Masjid.

https://my-vote.net/ayodhya/
অতি সহজ একটি কাজ।এই লিংকে গিয়ে ভোট দেওয়া যায়।

বৃহস্পতিবার, ৩০ আগস্ট, ২০১৮

এটা কিসের বন্ধন?কিসের খণ্ডন?আমি ছার পোকা জানতে চাই,

এটা বন্ধন খণ্ডন কিছু নয়,এটি আওয়ামী লীগ মারার ফন্দি বের করছেন কতিপয় জামাতি প্রতিষ্ঠান।কি আজব কাণ্ড,
আগে আল্লাহ, পিছে গার্মেন্টস দোয়ায় দেখছি,বাঁশখালী আওয়ামী লীগ তাড়াহুড়ি করে টাকার কাছে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে ?যারা এতোদিন জোরপূর্বক দেখবার শুনবার দায়িত্ব নিয়ে লুটেপুটে খেয়ে এমপি সাহেবে গোয়া মেরেছে,তার সবার আগে নিরাপদ আশ্রয়ের খুজে জামাতীদের নীড়ে বাসা বাঁধছে।যারা চলে বলে কৌশলে এমপি সাহেবকে সংগঠন বিরোধী কর্মকাণ্ড সময়ে সময়ে উৎসাহ প্রদান করেছে,
মাননীয় সাংসদ,
জনাব মোস্তাফিজুর চৌধুরী আপনার উপরও রাগ আছে,সারা জীবন খাওয়াই ধাওয়াই বলদ লালন পালন বলে।যারা আপনার ক্ষমতার মেয়াদ শেষ না হওয়ার পূর্বেই সিআইপি মুজিবের পা ছাটা কুকুরে পরিনত হয়েছে। আপনি এখনো বাঁশখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ২২ধরে সভাপতি।সবাই আপনাকে ছেড়ে চলে যাক,সমস্যা নাই,যোগ্য কর্মি একজন হলেই যথেষ্ট। তবু আপনার দায়িত্ব বলতে কথা আছে,নিজেকে হতাশায় ডুবিয়ে রাখবেন কেন?
আপনি কি দেখতে পারছেন? জামাতিরা সবার৷ পূর্বে কিভাবে আওয়ামীলীগ কিনে নিয়েছে?আপনার কাছে  আমার প্রশ্ন বাঁশখালী আওয়ামীলীগ কি জামাতিদের শেষ আহারে পরিনত হচ্ছে।
আপনার শরীরে,রক্তে বর্নে শীরায় উপশিরায় যদি জয়বাংলার ধ্বনিত প্রভাবিত হয়,তবে আপনার উচিত সবার পূর্বে জামায়াত ঠেকানো।
প্রয়োজনে নৌকার মাঝি হউক আপনার চিরপ্রতিদ্ধন্দী,বর্তমান সময় ও পরিস্থিতিতে নৌকা পাওয়ার এক মাত্র দাবিদার আলহাজ্জ্ব আব্দুল্লাহ কবির লিটন।।বাঁশখালী আওয়ামী লীগের রাজনীতি তে এই মানুষটার অবদান কোন অংশে কম নয়। সময়ের জনপ্রিয় ব্যক্তি।

আপনারা দুই সিনিয়র নেতার উদাসীনতার কারনে যেকোন সময় বাঁশখালী উপজেলা আওয়ামী লীগ জামীয়ার আহারে পরিনত হয়ে ভক্ষম কার্য....

দুই ভাইরে বুলছি,বাকিসব পরে,আগে জামায়াত ও দোসরদের তাড়ান,বাকিসব পড়ে।
নাহলে বাঁশখালীর আওয়ামী লীগ আপনার কাউকে ক্ষমা করবে না।

বুধবার, ২৯ আগস্ট, ২০১৮

গোলাম রাব্বানী ভাই:- তোমরা যারা 'শেখ হাসিনার ছাত্রলীগ' করতে চাও!

বাংলাদেশ ছাত্রলীগ; আদর্শিক পিতা বঙ্গবন্ধুর জীবন ও যৌবনের শ্রম-ঘামে প্রতিষ্ঠিত আমাদের প্রাণের প্রতিষ্ঠান, আমাদের আবেগ ভালোবাসা, নির্ভরতার ঠিকানা। ছাত্রলীগ অন্তর গহীনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে, পিতা মুজিবের আদর্শ লালন করে, দেশরত্ন শেখ হাসিনার ভ্যানগার্ড হয়ে সহযোদ্ধা, সাধারণ শিক্ষার্থীদের পরম বন্ধু এবং দেশবিরোধী সকল অপশক্তির মূর্তিমান আতঙ্ক হয়ে শিক্ষার মশাল জ্বালিয়ে শান্তির পতাকা উড়িয়ে এগিয়ে যাবে প্রগতির পথে।

ছাত্রলীগের বিগত দিনের কমিটি নিয়ে আমি কোন মন্তব্য করতে চাইনা। তবে পিতা মুজিবের একজন ক্ষুদ্র কর্মী হিসেবে আমার মনে হয় ছাত্রলীগের যে কোন পর্যায়ে অনুপ্রবেশের সুযোগ যারা সৃষ্টি করেছে, যারা ভাই ভিত্তিক রাজনীতি আর স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন করেছেন তারা হয়তো এমনটা তাদের অবচেতন মনে করেছেন।

ছাত্রলীগ নিয়ে তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত যে হতাশা, যে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে সেই হতাশা দূর করে আশার আলো ফোটাতে এবং সেই আলোর বিচ্ছুরণ তৃণমূল থেকে শুরু করে কেন্দ্র পর্যন্ত ছড়িয়ে দিতে এবারের ছাত্রলীগের কমিটি করেছেন স্বয়ং বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা। কথা দিচ্ছি, জীবনের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও আপার সে আস্থা-বিশ্বাসের মর্যাদা রাখবো। ছাত্রলীগের প্রতিটি পর্যায়ে এমন জনবান্ধব ও শিক্ষার্থীবান্ধব কর্মসূচী থাকবে, নেতৃত্ব মূল্যায়ন পদ্ধতি এমন হবে, যেন গণ মানুষ ভাবে, সে যেনো তাদেরই পছন্দে নির্বাচিত। মুখ থেকে যেন অজান্তেই বের হয়ে আসে "এই তো বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার কারিগর; শেখ হাসিনার ছাত্রলীগ"

নতুন ইতিহাস গড়ার দৃঢ় প্রত্যয়ে, ইতিবাচকতার নব বার্তা নিয়ে আসা 'শেখ হাসিনার ছাত্রলীগ'র একজন গর্বিত অংশীদার হতে চান?

তবে জেনে রাখুন, হৃদয়ের মানস পটে ধারণ করুন---

* মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাস আর শেখ হাসিনার জনবান্ধব উন্নয়ন-রাজনীতির দর্শনে প্রবল আস্থা রেখে সেবার ব্রতে শেখ হাসিনার ভ্যানগার্ড হয়ে নিরলস শ্রম দিতে হবে।

* মূল্যায়নের মূল নির্ণায়ক হবে সংগঠন ও আদর্শের প্রতি আপনার 'ডেডিকেশন' আর 'কমিটমেন্ট'। হ্যালো, ভাই, লবিং আর 'গিভ এন্ড টেক' নির্ভর রাজনীতি স্রেফ ভুলে যান!

* আপনাকে অবশ্যই মানবিক গুণাবলী সম্পন্ন হতে হবে। মার্জিত আচরণ, সুন্দর ব্যবহার আর মানবিক কাজে সবার আগে সবসময় ছাত্রলীগকে দেখতে চান আমাদের মমতাময়ী নেত্রী, মানবতার মা, শেখ হাসিনা। স্বেচ্ছায় রক্তদান, পীড়িতের সেবা, আর্তমানবতার পাশে দাঁড়ানো সহ যেকোন জনহিতকর কাজে ছাত্রলীগ থাকবে সবার আগে।

* একদিকে স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তির সকল ষড়যন্ত্র প্রতিরোধে, প্রতিবাদী মশাল হাতে রাজপথে, আবার সময়ের প্রয়োজনে সৃজনশীলতার কলমে বা কিবোর্ডে মেধার সাক্ষর রাখতে হবে ছাত্রলীগকে।

* সিটিজেন জার্নালিজম আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের এই স্বর্ণযুগে সময়ের সাথে এগিয়ে যেতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির যথাযথ জ্ঞান থাকতে হবে। অনলাইনে অপশক্তির নেতিবাচক কর্মকান্ড ও গুজব-সন্ত্রাসের দাঁতভাঙা জবাব দিতে অনলাইনে একটিভ থেকে পূর্ণ সক্ষমতা অর্জন করতে হবে শেখ হাসিনার ছাত্রলীগকে।

* সংগঠনের প্রতি আবেগ এবং অর্পিত দায়িত্ব-কর্তব্যের প্রতি নিষ্ঠাবান থাকা আবশ্যক।
ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ; এই শ্লোগান জপে দেশ ও দশের সেবায় নিজেকে সমর্পণ করার মানসিকতা থাকতে হবে।

* আপনার এবং আপনার পারিবারিক রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ডে আদর্শিক ত্রুটি, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের যে কোন পর্যায়ে মূল্যায়নে বড় অযোগ্যতা হিসেবেই বিবেচিত হবে।

* পদ-পজিশন, ক্ষমতা যদি আপনি আপনার ব্যক্তি স্বার্থ হাসিলের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের মানসিকতা রাখেন, তাহলে শিক্ষা-শান্তি-প্রগতির এই পবিত্র পতাকা  আপনার হাতে নিতান্তই বেমানান। হাসিমুখে ভালোবাসা দিয়ে ইতিবাচক কাজের মাধ্যমে মানুষের মন জয় করে তাদের অন্তরে শ্রদ্ধা-ভালোবাসার স্থান করে নিতে হবে।

* যেদিন থেকে ছাত্রলীগের নেতা বা কর্মী হিসেবে নিজেকে পরিচয় দেবেন, সেদিন থেকে আপনি পৃথিবীর বৃহত্তম একান্নবর্তী পরিবারের অবিচ্ছেদী অংশ। আপনার কথা-বার্তা, আচার-ব্যবহার, সৃজনশীল কাজের মাধ্যমে সংগঠনের ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে তুলে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে 'নৌকা'র পক্ষে জনমত গঠন তুলতে ছাত্রলীগকে মূখ্য ভূমিকা রাখতে হবে।

* তথাকথিত পরাধীনতা ও গতানুগতিক বাধ্যবাদকতার শেকল ভেঙে আপনার মেধা-মনন-সৃষ্টিশীলতা বিকাশের সেরা প্লাটফর্ম হবে ছাত্রলীগ। সেই প্লাটফর্ম থেকে আপনার মেধার আলোয় উদ্ভাসিত হবে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা। আপনার মেধা বিকাশে যেকোন প্রতিবন্ধকতা দূর করতে ছাত্রলীগ বদ্ধপরিকর।

আর একটা কথা, পথ পেয়ে নেতা বনে যাবের সুযোগ এই ছাত্রলীগে নেই, আপনাকে মানবিক ও সাংগঠনিক গুণের সমন্বয়ে আপনার ইউনিটে তৃণকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মন জয় করে তাদের মনে 'নেতা' হিসেবে আসন গাড়তে পারলেই আপনি শীর্ষ পদের জন্য বিবেচ্য হবেন।

--- আদর্শিক পিতা বঙ্গবন্ধু সোনার বাংলা গড়ার যে স্বপ্ন নিয়ে ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য উত্তরসূরি, দেশরত্ন শেখ হাসিনা সেই স্বপ্নকে পূর্ণতা দিতে ছাত্রলীগের উপরই আস্থা রেখেছেন। আমার-আপনার, আমাদের ছাত্রলীগের লাখো আদর্শিক কর্মীর নিজ নিজ অবস্থান থেকে দেশরত্ন শেখ হাসিনার চলার পথকে মসৃণ রাখতে, উন্নয়নের মার্কা নৌকার নিরলস কাজ করতে যদি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন, তাহলে 'শেখ হাসিনার ছাত্রলীগ' আপনাকে স্বাগতম জানাতে, আপনার যোগ্যতা, শ্রম আর ত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন করতে অধীর চিত্তে অপেক্ষা করছে।

এসো নবীন দলে দলে;
শিক্ষা-শান্তি-প্রগতির ছায়াতলে,
বাংলাদেশ ছাত্রলীগের পতাকাতলে,
দেশরত্ন শেখ হাসিনার স্নেহের আচঁলতলে...

কে এই সুজন?যে সার্ক মানবাধিকার সংগঠনের গুয়া মেরে হেসে হেসে আকাশে উড়ে




বাঁশখালীর রাজপথে জীবন যৌবন বিলিয়ে দেওয়া এমন এমন রাজনীতিবিধদের উত্মান পতন দেখেছি,এমন অনেক রাজনীতিবিধদের দেখেছি,যারা একটি আদর্শকে ভালোবেসে নিজেদের অকাতরে বিলিয়ে দিয়েছেন।তিনি এই প্রথম এক আজব রাজনীতিবিদকে দেখলো বাঁশখালী সাধারন থেকে অসাধারন সব রাজনীতিবিধ আর নিরহ জনতা।↓

ধরেছিলাম জামাতিরা যেমন অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হয়,ঠিক তেমনি তাদের দালালেরাও অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী। সার্কশিবির সভাপতি সুজন এমন এক বাস্তব দৃষ্টান্ত রাজনীতির মাঠে হইচই ফেলে দিয়েছিলো।রাতারাতি কোটিপতি হওয়ার আশায় সচেতন থেকে অচেতন নাগরিকদের অনেকই নিজ উদ্যোগে ছুটে গিয়েছিলো সার্ক সভাপতি সুজনের দরবারে।কেউ কেউ গেছেন সত্যিকারের মানব সেবায় নিজে/নিজেদেরকে সম্পৃক্ত করতে।
তারা বিশ্বাস করেছিলো সুজন একজন সৎ ও নিষ্ঠাবান৷ নাগরিক। কিন্তু আমি জানতাম এই সুজন সিআইপির বাড়া করা এক জামাতি দালাল,য়ে সহজ বাঁশখালীর মানুষ গুলো ঠকিয়ে,জামায়াত শিবিরের নেতাকর্মীদের সার্ক সংগঠনে যুক্ত করার বিশেষ চুক্তিতে সই করে, বাঁশখালীর সার্ক মানবাধিকার সংগঠনের নেতাকর্মী ও পুরো সংগঠনের গোয়া মেরে দিয়েছেন বাটপার সুজন।
তলে তলে জামাতিদের লগে পিরিত খেলে,সুজন আজ গাড়ি ছেড়ে হেলিকপ্টার ধরেছে।
যেমন তেমন নয়,একেবার প্রাইভেট হেলিকপ্টার।
কে এই সুজন?কি তার পরিচয়? বড় জানতে ইচ্ছে হয়। আমরা শালা আজীবন রাজনীতি কইরা ফকির ন্যায় বেচে আছি,আর তুই সার্ক মানবাধিকার চুদাইয়া হেলিকপ্টার লইয়া দৌড়াও।

এই বেটা,
শুধু আমি না,আমার মতো হাজার হাজার ছারপোকা জানতে চাই তোমার আসল পরিচয়?বলবানি তোমার এই টাকার উৎস কোথায়?তোমার আয়ের কি কি কয়টা খাত আছে?একি দেহি ভাই বাঁশখালীর
সার্ক মানবাধিকার সংগঠনের নেতারা এহন ব্যক্তিগত হেলিকপ্টার ছাড়া চলাফেরাই করে না।
জনাব,
আরিফুল হক সুজন সাহেব,আপনার আয়ের উৎস কি বাঁশখালী বাসী জানতে চায়।
না হলে নাকি জুতার ব্যবহার চলবে

মঙ্গলবার, ২৮ আগস্ট, ২০১৮

হলের কক্ষে সাদামাটা জীবন ছাত্রলীগ সভাপতির

ঢা
কা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের মেধাবী ছাত্র মো. রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন। গত ৩১ জুলাই তাকে সভাপতি করে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়।

ছাত্রলীগ সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে ছাত্রলীগ কর্মী থেকে শুরু অনেকের মধ্যে তাকে নিয়ে আগ্রহের শেষ নেই। তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও ব্যাপক কৌতূহল। তবে শোভন এ ব্যাপারে একেবারেই নীরব।

তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও ছাত্রলীগ কর্মীরা জানান, কৌতূহল আর আগ্রহের ভিড় থেকে নিজেকে অন্যদের থেকে আলাদা করে রাখতেই পছন্দ করেন শোভন। রাতারাতি সেলিব্রেটি হওয়ার কোন ইচ্ছে নেই তার। তিনি অত্যন্ত সাদামাটা জীবন যাপনে অভ্যস্ত। বদলাননি নিজেকে। অকারণে গণমাধ্যমের সামনে কথা বলাও তার পছন্দ নয়।

শোভন ছাত্রলীগের সভাপতি হওয়ার পরও হলেই থাকছেন। হাজী মুহাম্মদ মহসিন হলের ৩৩২ নম্বর কক্ষে থাকেন তিনি। কক্ষটি এক সিটের (সিঙ্গেল রুম)। কক্ষে ঢুকতেই চোখে পড়ে দেয়ালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি।

কক্ষে আসবাবপত্র বলতে একটি চৌকি, একটি বৈদ্যুতিক পাখা, একটি টিউব লাইট, তিনটি চেয়ার, দেয়ালে সঙ্গে থাকা লকার এবং একটি আয়না। কক্ষের ভেতরের পরিবেশ সাদামাটা ও অনাড়ম্বর। আলাদা করে তেমন কোনো বৈশিষ্ট্য চোখে পড়ে না। কক্ষটি এখন পরিচিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সভাপতির কক্ষ হিসেবে।

ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও ছাত্রলীগ কর্মীরা আরো জানান, শোভন বিনয়ী ও সদালাপী। প্রতিদিন ছাত্রলীগের অনেক নেতা-কর্মী ও দর্শনার্থী সাংগঠন এবং ব্যক্তিগত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলতে আসেন। মনোযোগ দিয়ে তিনি তাদের কথা শোনেন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেন। ছাত্রলীগের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সুন্দর ও হৃদয়গ্রাহী আচার-আচরণের জন্য ইতোমধ্যে তিনি প্রশংসা অর্জন করেছেন।

সকল ছাত্রলীগ কর্মীর জন্য রয়েছে তার অকৃত্রিম দরদ ও ভালবাসা। পরিশ্রম, বুদ্ধি ও বিচক্ষণতার কারণেও তিনি সুনাম অর্জন করেছেন। শুধু তাই নয়, দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি সংগঠনের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।

ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বচিত হওয়ার পরও শোভনের হলে থেকে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য প্রদীপ চৌধুরী বলেন, ছাত্রলীগ নেতাদের নিয়ে অনেকের মধ্যে অনেক ধরণের নেতিবাচক ধারণা আছে। কেউ কেউ এও মনে করেন ছাত্রলীগ সভাপতি খুব আরাম-আয়েশে দিন কাটান। কিন্তু এটি সম্পূর্ণরূপে একটি ভ্রান্ত ধারণা। শোভন ভাইকে কেউ যদি কাছ থেকে দেখেন তাহলে তার এ ধরণের ভ্রান্ত ধারণা দূর হয়ে যাবে। বাংলাদেশ বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি সভাপতি হওয়ার পরও শোভন ভাই হলে থেকেই পড়াশোনার পাশাপাশি সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। বেশিরভাগ সময় হলেই খাওয়া-দাওয়া করছেন। প্রতিদিন অসংখ্য নেতা-কর্মীর কথা ধৈর্য ধরে শুনছেন, নিজে কথা বলছেন। সাধারণ-সাদামাটা জীবনযাপনেই তিনি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। কোনো ধরনের বাহুল্য তিনি পছন্দ করেন না। হলে থাকতেই ভাইয়ের ভালো লাগে। নিজের মূল্যবোধ আর ব্যক্তিত্বের কারণেই শোভন ভাই অনন্য। এতে অনুপ্রাণিত হবে আমার মতো লাখো ছাত্রলীগ কর্মী।

“আমি যদি বাইরে থাকি, তাহলে আমার সঙ্গে ছাত্রদের একটা দূরত্ব তৈরি হবে”

এদিকে হলে থেকে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে শোভন বলেন, প্রথম কথা হচ্ছে আমি এখনো ইউনিভার্সিটির বৈধ স্টুডেন্ট, সে হিসেবে আমার হলে থাকার অধিকার আছে। আমি হলেই থাকছি। আরেকটা বিষয় হচ্ছে, আমি ছাত্রলীগের সভাপতি, ছাত্রলীগ ছাত্রদের অধিকার নিয়ে কথা বলবে এবং ছাত্রদের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকবে। আমি যদি বাইরে থাকি, তাহলে আমার সঙ্গে ছাত্রদের একটা দূরত্ব তৈরি হবে। আমি যদি ক্যাম্পাসে থাকি, সবসময় চলাফেরা করি, সব ছাত্রদের সঙ্গে কথা বলি তাহলে আমাদের মধ্যে একটা পারস্পরিক বন্ধন তৈরি হবে। ক্যাম্পাসে থাকলে স্বভাবতই সবার সাথে দেখা হয়। আমিতো ছাত্র-মানুষ, আমার চালচলন, চলাফেরা যদি সবসময় একজন ছাত্রের মতো থাকে তাহলে অন্য ছাত্ররা আমাকে মানবে ও সম্মান দেখাবে।

বিবার্তা/তৌহিদ/সোহান
bbarta24.net

সরকার উৎখাতের নতুন পরিকল্পনায় সিঙ্গাপুরে আইএসআই-বিএনপির বৈঠক দৈনিক মানবকণ্ঠ



 সিঙ্গাপুরে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর দুই কর্মকর্তাদের সঙ্গে কয়েক সপ্তাহ আগে বৈঠকে বসেছিলো বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের বেশ কয়েকজন নেতা। গোয়েন্দা সূত্র ব্যবহার করে লুকইস্ট এ খবর প্রকাশ করে। এ প্রসঙ্গে বিএনপির নেতৃবৃন্দর কাছে জানতে চাওয়া হলে তারা বিষয়টিকে বানোয়াট ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেয়। তারা জানায়, সরকার সকলকে শত্রু মনে করছে বলে এমন বানোয়াট গোয়েন্দা প্রতিবেদন তৈরি করছে।

গোয়েন্দা সূত্রে বলা হয়, জনরোষ সৃষ্টি ও ‘সাধারণ মানুষ’ তকমা ব্যবহার করে কিছু আওয়ামী লীগ নেতাকে হত্যার মাধ্যমে বর্তমান সরকারকে উৎখাতের পরিকল্পনা করছে বিএনপি। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে নতুন করে সহিংস কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে বিএনপি ও তার বৈধ-অবৈধ শরিক দলগুলো। যার মূল লক্ষ্য ‘জন অসন্তোষের নামে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের হত্যা’।

সাধারণ মানুষকে সরকারের বিভিন্ন ইস্যুতে উসকানি প্রদানের মাধ্যমে আন্দোলন চাঙ্গা করার পরিকল্পনা করছে বিএনপি। পূর্ববর্তী সহিংস আন্দোলনে সাধারণ মানুষ ও পাবলিক পরিবহনের ওপর হামলা চালিয়ে বিএনপি ও তার সহযোগীরা তীব্র সমালোচনার শিকার হওয়ায় এবার তাদের টার্গেট হবে আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ। আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা নষ্টের পাশাপাশি নির্বাচনী প্রচারণায় বাঁধা সৃষ্টির লক্ষ্যে বাছাইকৃত কিছু আওয়ামী লীগ নেতার ওপর হামলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। জানা যায়, ‘সাধারণ মানুষ’ সেজে আওয়ামী লীগ নেতাদের ওপর এই হামলা করা হবে।

গোয়েন্দা বিভাগের সূত্র অনুসারে, গত সপ্তাহে বিএনপির সিনিয়র কিছু নেতৃবৃন্দ সিঙ্গাপুরে সভা করে। সেখানে হাসিনা সরকারকে উৎখাতের নতুন পরিকল্পনা করা হয়। সভায় বিএনপির এই সিনিয়র নেতাদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলো আইএসআই-এর দুইজন কর্মকর্তা। এই বিষয়ে পরবর্তী আলোচনার জন্য চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে ব্যাংককে পুনরায় সভায় বসা হবে বলেও জানানো হয়।

সভার সিদ্ধান্ত অনুসারে, সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভিন্ন ইস্যুতে জনরোষ সৃষ্টির পরে পর্যায়ক্রমে আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন নেতাকে হত্যা করা হবে। পরবর্তীতে প্রচার করা হবে জনরোষের কারণে তাদের ওপর হামলা করে হত্যা করেছে ‘সাধারণ মানুষ’। এর মূল লক্ষ্য আওয়ামী লীগের প্রতি দৃঢ় প্রতিশ্রুতি বদ্ধ নয় এমন কর্মীদের নির্বাচনী কার্যক্রম থেকে বিচ্যুত করা।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ বলেন, বিষয়টি মনগড়া প্রতিবেদন। সরকারকে মনের রোগ পেয়েছে। এ জন্যই তারা বন্ধুকেও শত্রুর চোখে দেখছে। সিঙ্গাপুরে বিএনপি নেতাদের বৈঠকের বিষয়টিও তাদের মনগড়া। বিষয়টি নিয়ে তারা বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছে। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দদের কাছ থেকে এ ধরণের মনগড়া বক্তব্য কাম্য নয়।

অবশ্য লুকইস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, জনরোষ তৈরির পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিএনপি ইতোমধ্যে গণমাধ্যমে ও প্রশাসনের পেছনে প্রচুর অর্থ ব্যয় করেছে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই সময়ে এসকে সিনহা তার স্মৃতিচারণমূলক বই প্রকাশ করতে চাইছে। বিএনপি ও আইএসআই-এর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে শেখ হাসিনা সরকারকে উৎখাতের জন্য এই স্মৃতিচারণমূলক বইটি লেখা হচ্ছে যার অর্থায়নে রয়েছে জামায়াত ইসলাম।

Collected
মানবকণ্ঠ/আরএ
https://www.manobkantha.com/সরকার-উৎখাতের-নতুন-পরিকল/


আওয়ামীলীগের জন্য একটি কঠিন সতর্কবার্তা, (আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী)

আওয়ামী লীগের জন্য একটি সতর্কবার্তা উচ্চারণ করতে পারি, ১৯৭৫ সালেও তা করেছিলাম। সেবারেও লন্ডন থেকে (তখন আমি সদ্য লন্ডনে এসেছি, ঢাকায় মাস খানেকের জন্য গিয়েছিলাম) বাংলাদেশে এসে বাতাসে বারুদের গন্ধ পেয়েছিলাম।আমার এই আশঙ্কার কথাটা বঙ্গবন্ধুকে জানিয়েছিলামও। কিন্তু তখন যেসব পারিষদ তার চারপাশ ঘিরে রেখেছিল, যেমন তাহের উদ্দিন ঠাকুর, তাকে জানিয়েছিলেন, ‘গাফ্ফার চৌধুরী লন্ডন থেকে এসে গুজব ছড়াচ্ছেন’।

ঢাকায় একটি সামরিক অভ্যুত্থানের আশঙ্কার কথা ভারতের তৎকালীন হাইকমিশনার সমর সেনকেও জানিয়েছিলাম। তিনি ১৫ আগস্টের ট্র্যাজেডির পর লেখা তার ‘মিডনাইটস ম্যাসাকার’ নামে বইতে লিখেছেন, ‘গাফ্ফার চৌধুরী নামে ঢাকার এক সাংবাদিক আমাকে মুজিব-সরকারবিরোধী এক চক্রান্তের কথা জানিয়েছিলেন। আমি সঙ্গে সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর কাছে সতর্কবার্তা পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু দিল্লির সাউথ ব্লক থেকে তা ইন্দিরা গান্ধীর কাছে পৌঁছানো হয়নি, সে কথা পরে জানতে পারি।’

অতীতের কথা থাক। যা হওয়ার তো হয়ে গেছে। এবার ঢাকায় গিয়ে বাতাসে বারুদের গন্ধ পাইনি। কিন্তু যা পেয়েছি তা আরও ভয়ংকর। ফেসবুকের মাধ্যমে নির্বিচার মিথ্যা ও গুজব প্রচার এবং আওয়ামী নেতা, মন্ত্রী ও এমপিদের অধিকাংশের মধ্যে উদাসীনতা এবং আগামী নির্বাচনে জেতা সম্পর্কে এক ধরনের আত্মপ্রসাদই বিরাজ করছে।

তাদের ধারণা, বিএনপি-জামায়াতের এখন কোমর ভেঙে গেছে। তারা যত চেষ্টাই করুক, ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না। তাই তারা বাইরের শক্তির কাছে কেবল আবেদন-নিবেদন করে বেড়াচ্ছেন।

শত্রুর দুর্বলতাকে যে ছোট করে দেখতে নেই এবং তার ক্ষমতাকে উপেক্ষা করতে নেই এই সত্যটা আওয়ামী লীগের একশ্রেণীর মন্ত্রী ও এমপি ভুলে গেছেন এবং তারা নিজেদের যথেচ্ছ লুটপাট ও ক্ষমতার অপব্যবহার দ্বারা শেখ হাসিনার সব অর্জনকে ব্যর্থ করে দিচ্ছেন। ফলে শত্রুপক্ষের দ্বারা গুজব ছড়ানো সহজ হচ্ছে।

তারা তিলকে তাল করতে পারছেন। হেফাজতি অভ্যুত্থানের সময় তারা প্রচার করতে পেরেছেন- ঢাকায় কয়েক হাজার হেফাজতি ও মাদ্রাসাছাত্রকে হত্যা করে লাশ ভারতে পাচার করা হয়েছে।

এবার ছাত্র আন্দোলনের সময় হাসিনা-সরকার আন্দোলনকারীদের প্রতি সবচেয়ে বেশি ধৈর্য ও সহানুভূতির পরিচয় দেয়া সত্ত্বেও দেশের বাইরে শক্তিশালী প্রচার ব্যবস্থার দ্বারা বলা হয়েছে, বাংলাদেশে গণহত্যা চালানো হয়েছে। বিদেশি প্রভাবশালী পত্র-পত্রিকায় তা বিশ্বাসযোগ্যভাবে ফলাও করে প্রচার চলছে। দেশের এক অভিনয়শিল্পীকে দিয়েও বলানো হয়েছে, ছাত্র আন্দোলনের সময় ছাত্রী ধর্ষণ, চোখ উপড়ে ফেলার মতো নৃশংস ঘটনা ঘটেছে।

দু’দিন পরই অবশ্য জানা যায় এগুলো জঘন্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা। কিন্তু ততদিনে বাংলাদেশের এবং তার বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তির যতটা ক্ষতি হওয়া দরকার তা হয়ে গেছে। বিশ্বের ২৮ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি, তাদের মধ্যে ১১ জনই নোবেলজয়ী ব্যক্তিত্ব, তারা বাংলাদেশে শহিদুল আলম নামের এক আলোকচিত্রশিল্পীকে গ্রেফতার, তার ওপর পুলিশের শারীরিক অত্যাচার-নির্যাতনের তীব্র প্রতিবাদ করেছেন এবং এমন কথাও বলেছেন, বাংলাদেশে মতামত প্রকাশের ন্যূনতম স্বাধীনতাও নেই।

শহিদুল আলমকে গ্রেফতার করা হয়েছে একথা সত্য। কিন্তু তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে এই অতিরঞ্জিত খবরটা নোবেলজয়ীদের কানে রাতারাতি পৌঁছালো কে? শহিদুল আলমকে ‘বিশ্বখ্যাত ব্যক্তি’ বলে ফাঁপানো-ফুলানো হয়েছে। তিনি তা নন। তিনি একজন কৃতী আলোকচিত্রশিল্পী মাত্র।

অবশ্য তাতেও তার ওপর অত্যাচার কারও কাম্য নয়। কিন্তু যে অত্যাচার হয়নি, তাকে সাজিয়ে গুছিয়ে ‘নির্মম সত্য’ হিসেবে বাজারে ছড়াল কে? এমনকি দক্ষিণ আফ্রিকার বিশপ টিটু, যিনি শহিদুল আলমের নামও জানতেন না (আমার ধারণা), ভারতের শাবানা আজমি কেমন করে রাতারাতি শহিদুল আলমকে চিনে ফেললেন এবং তাকে অত্যাচারের খবর তাদের কানে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে তারা প্রতিবাদ জানিয়ে ফেললেন? এটা তো বিশ্বের অনেক গণনির্যাতনের ক্ষেত্রেও ঘটতে দেখিনি।

আমার সন্দেহপ্রবণ মন, শহিদুল আলমের ওপর কথিত নির্যাতনের প্রতিবাদকারী নোবেলজয়ীদের নামের তালিকার দিকে তাকাতেই দেখি, তাতে বাংলাদেশের ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নামও রয়েছে। তখনই আমার সন্দেহ হয়েছে, ডালমে কুছ কালা হ্যায়।

মেঘ ছাড়া বৃষ্টি হয় না, ড. ইউনূস ছাড়া এতজন নোবেলজয়ী কী করে হঠাৎ শহিদুল আলমকে চিনে ফেললেন এবং তার মুক্তির দাবিতে রাতারাতি বিবৃতিতে সই দিয়ে ফেললেন, তা এক রহস্যের কথা। পেছন থেকে তাদের ব্রিফ করলেন কে?

বাংলাদেশ সরকারের উচিত, বিদেশে বাংলাদেশবিরোধী যে শক্তিশালী প্রোপাগান্ডা অভিযান চলছে, তার কুশীলবদের সম্পর্কে খোঁজখবর নেয়া এবং তার প্রতিকারের ব্যবস্থা করা। হাসিনা-সরকারের কোনো কাউন্টার-প্রোপাগান্ডা সেল আছে কিনা আমি জানি না।

থাকলেও তার কোনো কার্যকারিতা নেই। কেবল প্রচার-প্রোপাগান্ডা দ্বারা শহিদুল আলমকে রাতারাতি বিশ্ব বিখ্যাত করে তোলা হয়েছে, কিন্তু তার আসল পরিচয় সরকারের জানা থাকা সত্ত্বেও তা আগে প্রকাশ করা হয়নি বা তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা তারা নেননি। এখন তাকে গ্রেফতারের পর নির্যাতনের খবর বিশ্বময় ছড়িয়ে যাওয়ার পর এসব তথ্য বিশ্বাস করবে কে?

শহিদুল আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগ, নিরাপদ সড়কের দাবির আন্দোলনের সময় তিনি মিথ্যা খবর ছড়িয়েছেন। তা শুধু সরকারবিরোধী প্রচারণা নয়, রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণাও! এই বক্তব্য রেখেছেন তিনি আলজাজিরাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে।

এখন তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রকাশ পাচ্ছে- তিনি বহুদিন ধরে একই কাজে লিপ্ত। এই অভিযোগগুলো হল প্রায় দেড় যুগ ধরে তিনি কোনো অনুমোদন ছাড়াই পাঠশালা নামে প্রতিষ্ঠান থেকে স্নাতক, ডিপ্লোমার শর্ট কোর্স-লং কোর্স সার্টিফিকেট দিয়ে কোটি কোটি টাকা নিচ্ছেন।

কিছুদিন আগে বর্তমান সরকারের আমলেই তিনি অনুমোদন নিয়েছেন পাঠশালার। এই পাঠশালার নামে অনুদান নিয়ে ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে তা স্থানান্তর করেছেন।

শহিদুল আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগের তালিকা দীর্ঘ। তিনি জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক প্রমাণ করার জন্য নকল ছবি তৈরি করেছেন। বন্ধু ডেভিড বার্গম্যানের (ড. কামাল হোসেনের জামাতা) সহায়তায় একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর খবর প্রকাশ করেছেন। এ জন্য তিনি গ্রেফতারও হয়েছিলেন।

গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনকে তিনি নাস্তিকদের আন্দোলন বলে প্রচারণার কাজে যুক্ত ছিলেন। চীনের সঙ্গে হাসিনা-সরকারের বিবাদ বাধানোর জন্য ২০০৯ সালে একবার, এর পরে আরেকবার চীনবিরোধী চিত্র ও পোস্টার প্রদর্শনী করেন। চীনা দূতাবাসের প্রবল আপত্তির কারণে বাংলাদেশ সরকার প্রদর্শনী বন্ধ করে। মতিঝিল শাপলা চত্বরে হেফাজতি অভ্যুত্থানের সময় সাড়ে তিন হাজার আলেম ও মাদ্রাসাছাত্র হত্যার মিথ্যা খবর রটানোর কাজেও তিনি যুক্ত ছিলেন।

এই অভিযোগগুলো যদি সত্য হয়, তাহলে এই গুণধর ব্যক্তির বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে সরকার নিষ্ক্রিয় ছিল কেন? আজ যখন শিশুসাপ বড় হয়ে বড় রকমের ছোবল দিয়েছে তখন তাদের ঘুম ভেঙেছে।

সরকারের বিরুদ্ধে এই যে অব্যাহত প্রচারণা, তার মোকাবেলা না করার ব্যাপারে সতর্কতার অভাবেই একটি সাধারণ নির্বাচনের আগে এই সরকারকে একটি গণবিরোধী স্বৈরাচারী সরকার প্রমাণ করার জন্য প্রতিপক্ষ সুযোগ পেয়েছে এবং ’৭৫-এর আগে প্রচারণার ধূম্রজাল সৃষ্টি করে বঙ্গবন্ধু-সরকারকে ক্ষমতা থেকে উচ্ছেদের জন্য যে পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছিল, বর্তমানে হাসিনা-সরকারের পতন ঘটানোর লক্ষ্যে একই ধরনের প্রচারণা দ্বারা একই পরিস্থিতি তৈরির ষড়যন্ত্র চলছে।

আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতা এই পরিস্থিতি সম্পর্কে সতর্ক নন। তারা বিএনপিকেই একমাত্র প্রতিপক্ষ মনে করে অনবরত খালেদা জিয়া ও বিএনপির সমালোচনা করে চলেছেন। কিন্তু লক্ষ করছেন না বিএনপির চেয়েও শক্তিশালী এটি ছদ্মবেশী শত্রুপক্ষ তাদের আছে।

এই শত্রুপক্ষ হল একটি তথাকথিত সুশীল সমাজ, যার অন্যতম নেতা হলেন ড. কামাল হোসেন, ড. ইউনূস প্রমুখ। আন্দোলন দ্বারা হাসিনা-সরকারকে কুপোকাৎ করা যাবে না জেনে তারা প্রচারণা দ্বারা শক্তিশালী বিশ্বজনমত গঠন করে তাদের উদ্দেশ্য হাসিল করতে চান।

এই প্রচারণা তারা চালাচ্ছেন বিপুল অর্থ ব্যয়ে। তাদের সহযোগী বিএনপি-জামায়াতও। আন্তর্জাতিক মদদ এবং অর্থ সাহায্য রয়েছে এর পেছনে। লর্ড কার্লাইলের মতো কয়েকজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আইনজীবী ও রাজনীতিক তাদের লবিস্ট।

কিছু পশ্চিমা পাবলিক রিলেশন্স সংস্থা আছে, বিপুল অর্থ ব্যয়ে তাদের ভাড়া করলে তারা তাদের মক্কেলের লবিস্ট হয়ে প্রচারণা চালান। টাইমস, গার্ডিয়ান, নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকার মতো কাগজগুলোতে পর্যন্ত তাদের প্রভাব বিদ্যমান।

গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে হাসিনা-সরকারের সঙ্গে বিরোধের সময় ড. ইউনূস এই সংস্থাটিকে তার লবিস্ট হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন। ’৭১-এর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার-আদালতের বিরুদ্ধে বিশ্বময় প্রচারণার কাজে জামায়াত ও বিএনপি এই পিআর কোম্পানিকে ব্যবহার করে। তারেক রহমানও এই পিআর কোম্পানির মক্কেল।

খবর নিলে হয়তো জানা যাবে, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে সারা দুনিয়ায় মিথ্যা ও অতিরঞ্জিত খবর প্রচারের কাজে, এমনকি ১১ জন নোবেল লরিয়েটের বিবৃতির খসড়া তৈরি এবং তাতে তাদের সই সংগ্রহের কাজেও এই আন্তর্জাতিক পিআর কোম্পানির ভূমিকা রয়েছে।

আমার ধারণা, ধারণাটি সঠিক কিনা জানি না, কোম্পানিটির এই ভূমিকার পেছনেও রয়েছে আমাদের নোবেলজয়ীর হাত। সেই হাতের পেছনে তার বন্ধু হিলারি ক্লিনটনেরও মদদ আছে কিনা আমি জানি না।

লেখা দীর্ঘ করতে চাই না, বাংলাদেশের পরিস্থিতি সত্যিই স্বস্তিদায়ক নয়। আমি আওয়ামী লীগকে বিদেশে বসে সতর্ক করতে পারি, সক্রিয় করতে পারি না। শেখ হাসিনার এখন অনেক উপদেষ্টা। এই লেখাটি তারা তাচ্ছিল্য সহকারে পড়লেও কিছুটা লাভ হতে পারে।

Hot List,create by Islami Crhatru Shibir

বাঁশ
খালী উপজেলা ও চট্টগ্রাম দক্ষিন জেলা ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীসহ বেশকিছু মুজিব আদর্শের সৈনিকের উপর,যেকোন সময়ে,যেকোন উপায়ে স্বশস্ত্র হামলা হতে পারে।বাঁশখালীর আনাচেকানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা আমার বিশাল ছারপোকা বাহিনী উল্লেখযোগ্য প্রমানসহ এই তথ্য সংগ্রহ করেছে।যেখানে৷ এটাই অপ্রিয় সত্য যে,
বেশকিছু হামলা পাল্টা হামলা নিজ দলের বা নিজ গ্রুপের বা অন্য গ্রুপের লোকদের দিয়ে সংঘটিত করা হবে।জামায়াত শিবিরের পূর্বপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ এটি।
চরম সত্য এই যে,নির্বাচনের এক মাস আগ মুহূর্তে পর্যন্ত জামায়াত শিবির প্রকাশ্যে আওয়ামী সংগঠনের কারো সাথে মুখামুখি দাড়াবে না।তবে অনলাইনে গুজব আর সরকার বিরোধী প্রচারণায় এদের সংখ্যা দ্বিগুণের চেয়ে বেশি হবে।তর্কে বিতর্কে থাকবে ১০০%সক্রিয়। প্রতিটি কর্মকান্ড হবে সরকার বিরোধী,আওয়ামী বিরোধী।

নির্দিষ্ট পর্যন্ত নিজেদের রাস্তা পরিষ্কার রাখতে,আওয়ামী লীগ দিয়ে ওরা আওয়ামী লীগ মারাবে।খেয়েধেয়ে যারা ঠিকে থাকবে,তাদের সাথে শেষ ফাইনালে ওরা প্রতিপক্ষ হয়ে আপনার/আমার/আপনাদের মুখামুখি দাড়াবে।এটাই চরম সত্য,এটাই চরম বাস্তবতা।আমার তথ্য শতভাগ সত্য।
তবে মহান আল্লাহর কাছে একটাই প্রার্থনা,জামাতিদের কোন ষড়যন্ত্র যেন সফল না হয়।প্রয়োজনে আমি মিথ্যা হই,হয় আমি পেইক।তবু মন থেকে চাই আমার প্রাণের সংগঠনের ভাইয়ের,জনকের আদর্শিক পুত্রদ্বয় আরো অনেক দিন বেঁচে থাকুক,জাত শত্রুর পাতানো/ষড়যন্ত্র  ফাঁদ নৎসাত করে দিয়ে।
খুব অল্প সময়ের মধ্যে যাদের উপর হামলা হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে,তাদের মধ্যে আছে জেলা ও উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা।আর এদের সবার উপরেই আছেন, Hussain Muhammad,
তারপর.........
√হোছাইন মোহাম্মদ,
√ Hamid Hossain
√ ইমরান মাহমুদ চৌধুরী রুমন
√এমদাদুল হক
√ Abdur Rahim
√সওকত
√রওশনজ্জামান
√লোকমান
√ফরহাদুল ইসলাম চৌধুরী
√চৌধুরী নাজেমুল হক
√Najmul hasan sohel
√ Zum Babor
√ Sogir mahmod sagor বিদেশ যাওয়ায় বেচে গেছে,
√Anisul haq chy
√মামুন সজীব জয়
√md sakawoat hossain
√M Jamir Uddin Sikder Abir
√A.Banik
√তানভীর চৌধুরী
√mizan sikder
√ samsed omar
√ Gazi Zahed
√ আবু হেনা মোস্তাফা কামাল
√mofuzur rahman obi
√Md. MD Jonaid Siddik 
বিদেশ থাকায় বেচে গেছো।
√saied Mohammed sakil
√Rahul das
√Abdullah al masum
√ Amir mia Ba
√ Delower Hossain raju
√saful islam
√md Nadim
√Zia uddin Arif
√Md Milton
√Mohammad Manik
√rahim uddin ridoy
√N.Sahabuddin
√Top Babu sahid
√Liton acerjje
√Md fakururddin
√Juwl rana
√Md. Ataul
√Sahidul islam sabuj
√Mk.Mohammad maruf
√Md karim
√Md Abu Hanif
√Anamul Hoque
√Opu botacajje
√Omar faruk
√Md Nasir,বিদেশ থাকায়,নিরাপদ আছেন।
√Abdullah al Emon
√Santo dey
√Md iQbal
√ Zifsse Rudro
√Ripon talukdar
√Habibul islam,বিদেশ যাওয়ায় বেচে গেছো
√ Saied Hasan Arfat Milton
√MD Arfatul Islam
√Iftiker Babu
√rubel nahth
√md nur hossain
√Md mijanur rahman
√Abul Hossain অদৃশ্য হওয়ায় এখনো নিরাপদ
√সোনা মিয়া, অদৃশ্য হওয়ায় এখনো নিরাপদ
√ছারপোকা, যাওয়া আসার মিছিলে আছি
√অগ্নিশিখা,আপাতত চান্দের দেশে
√পন্ডিত মশাই, আপাতত চান্দে

স্থান কালপাত্র ভেবে ক্রমিক নাম্বারের তারতম্য হতে পারে।তবে নির্বাচনের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত ওদের কপালে কোন শান্তি নেই।এরা যতটাই শান্ত প্রিয় নম্রভদ্র হোক না কেন?এদের রাখা হবে ২৪ঘন্টা অশান্তিতে। যেকোন ভাবে, যেকোন উপায়ে।যেখানে কেউ হবে স্ব শস্ত্র  হামলার শিকার,,কাউকে লাঞ্চিত,কাউকল চির বিদায়।

কপিঃ ছার পোকা

Mujibur Rahman urged to leave the camp with the camp, opening the door to the CIP August 27, 2018




Opening
 Mr. Mujibur Rahman CIP

Rising politician, industrialist social worker.
Banskhali Chittagong

Context- (Leave the right, get it) Awami League does not go with Jamaat.

Sir,
namely respect bihita enter Respectfully, I have bed bugs in your political activities that fit intense Beja, few minds open sky behind you now, as you know dilamaami scatter. Dewan liga many goose goats Jamaat Shibir Theika has taken place in your shelter.
How do you know, you are pleasing to me, and you forgot the great bazar, mischief knowledge on you, you killed me 1st, the resumption of this morning. Twice. Did not you? Ien this time you have a hard time
For the involvement of anti-organizational organization, the leader of the controversial Awami League, some editors of Chadakkhan district Awami League, should demand apology from the grassroots Awami League, Banshkhali grassroots Awami League and the leaders of the organizing organizations.
I could not live, why did you want to kiss?

You,
Mr. CIP, if you claim that
you deserve a worthy Awami League of the ideals of the Father of the Nation, then
I have a lot of wants for you. In the absence of you, you will be the enemy of Awami League in my lifetime.
Maybe the exception.
However, the Awami League but not my father's wealth.
I do not have the right to create obstacles in the way of you or your movement. But Bangladesh Awami League, Sheikh Hasina, Banshkhali grassroots Awami League betrayers do it, then I can not stop you from the chaotic insects.

Thousands of people died in the death of a fugitive, 71 defeated power Jamaat to prevent the conspiracy of enemies of Bangladesh and Awami League.
But by using the name of Bangladesh Awami League, the organization formed by the father, why you have dropped the Jamaat BNP.
Those who have conspired against the Awami League government under the leadership of the Janata Party leader Sheikh Hasina, have left their homes in the house, who have returned them to their highways, to whom they need to return.

Buying the post became the leader, some of the father's father did not become true Awami League.
Allah has given you a lot of money, whether it is Banskhali or everyone knows it. Your place in the industrial market is very high. I saw you donate charity to Facebook.

But if you spend half of the amount spent on the Jamaat camp, then if you used to spend half of it for Awami League, then Jamaat will not have any resistance from the soil of Banskhali. But now you are just reversing it till today. Your activities are going to hit the Awami League. You will see, how active Banshkhali Jamaat Shibir is due to the financial support given to you. Sci. They're by your money today. Killing us, killing Awami League.
Do not say!
These are not the reasons for your shame, you need to correct themselves, you do not feel yourself.
but why?

We are critical of what you think, we are doing it. We know that, you are forced to agree with your name before putting your name together. Each of your activities is a creation of a lining.

You should leave the Jamati company, stop providing financial services to the Jamtis. Leave the civic cadres, then you will automatically see, Awami League's grassroots activists will love you from the heart. More than the criticism will keep in discussion. When the Jamatians love you more, and when you dance with their heads , Then you criticize yourself in many cases, it becomes a cafaya.

Dear brother,
Please take my humble request to you, read the unfinished autobiography of the Father of the Nation, and review the history of the Jumma and Awami League of Bangladesh. Please, read, see the history of Mir Zafar as well as the Mostaq. Do not let yourself be driven by mercy.
Banshkhali's Awami League family will not forgive you
One day in the history of Kadgadra, you will stand in the role of Khandakar Mostak. If you do not correct. Do not improve. Do not want to apologize for unwanted mistakes.

If there is a change, good luck, if the Awami League is the cause of the destruction then criticism.

Bugs
born disembada 1, 1971,

জামাত শিবিরের সঙ্গ ত্যাগ করার অনুরোধ জানিয়ে মুজিবুর রহমান সিআইপির নিকট ছারপোকার খোলাচিটি

খোলাচিটি:-
জনাব মুজিবুর রহমান সিআইপি


,
উদয়মান রাজনীতিবিদ,শিল্পপতি সমাজসেবক।
বাঁশখালী চট্টগ্রাম।

প্রসঙ্গঃ-(ঐকূল ছাড়ুন,এইকুল পাবেন)জামায়াতের সাথে আওয়ামী লীগ যায় না।

জনাব,
যথা বিহীত সম্মান পূর্বক বিনীত নিবেদন,এই যে আমি ছারপোকা আপনার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তীব্র বেজার হইয়া,ক'টা মনের কথা খোলা আকাশে আপনার নামে উড়াইয়া দিলাম।আমি জানি এইডা আপনার অগোচরে৷  দেওয়নের লাইগা অনেক গুলা ছাগল জামায়াত শিবির থেইকা আপনার আশ্রমে দাপটের জায়গা করে নিয়েছে।
কেডা জানি কইলো,আপনি আমারে খুইজতাছেন,আরেক জন আপনি উপর মহা বেজার,হিতাহিত জ্ঞান ভুলে গিয়ে আপনি আমাকে ১ম হত্যা করেছেন,এইডা মোর পুনঃজম্ম।বুইঝবার৷ পারছেননি? আইয়েন এইবার আপনারে কড়া কথা কই,,
দলীয় পদবি ব্যবহার করে,সংগঠন বিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত হওয়ার অপরাধে বিতর্কিত আওয়ামীলীগ নেতা,চঃদক্ষিন জেলা আওয়ামী লীগের কতিপয় সম্পাদকের উচিত,বাঁশখালীর তৃনমূল আওয়ামী লীগ, সহ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত বলে দাবি করছি।
বুইঝবার পারছেনি,মুই কিতা কইবার চাইলাম?

আপনি,,
জনাব সিআইপি সাহেব,যদি আপনি নিজেকে জাতির পিতার আদর্শের যোগ্য আওয়ামী লীগ দাবি করেন,
তাহলে,
আপনার কাছে আমার অনেক চাওয়া আছে।যাহার ঘাটতিতে আপনি আজীবন আমার কাছে আওয়ামীলীগ এর শত্রু হয়ে থাকবেন।
হয়তো ব্যতিক্রম।
তবে,আওয়ামী লীগ কিন্তু আমার বাপের সম্পতি নয়।
আপনাকে বা আপনার চলার পথে কোনরূপ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করার অধিকার আমার  নাই।কিন্তু বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ,জননেত্রী শেখ হাসিনা,বাঁশখালী তৃনমূল আওয়ামী লীগের বিশ্বাসঘাতকতরা করেন,তাহলে আমি ছার পোকার মুখ আপনি বন্ধ করতে পারবেন না।

এক ছারপোকার মৃত্যুতে হাজার ছারপোকা জম্মাবে,৭১পরাজিত শক্তি জামায়াত বাংলাদেশ ও আওয়ামী লীগের জাত শত্রুদের ষড়যন্ত্র রুখে দিতে।
কিন্তু জনকের হাতে গড়া সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ এর নাম ব্যবহার করে,আপনি জামায়াত বিএনপিকে কেন মাটে নামিয়েছেন।
যারা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে করতে,লেছ গুটিয়ে বাড়িতে ডুকে আছে,আপনি তাদের কার প্রয়োজনে,কার ঈশারায় পুনরায় তাদের রাজপথে নামিয়েছেন।

পদ কিনে নেতা হয়ে গেলেন,কিছুটা জনকের আদর্শ বুুকে নিয়ে সত্যিকারের আওয়ামীলীগ হতে পারলেন না।
আল্লাহ আপনাকে অনেক অর্থকড়ি দিয়েছেন,তা বাঁশখালী কমবেশি সবাই জানে।শিল্পপতি বাজারে  আপনার স্থান অনেক উপরে।ফেইসবুকে দেখেছি আপনি দান খয়রাত ভাল করেন।

কিন্তু জামায়াত শিবিরের পিছনে আপনি যা ব্যয় করেন,,তার অর্ধেক যদি আওয়ামী লীগের জন্য ব্যায় করতেন,তাহলে বাঁশখালীর মাটি থেকে জামায়াত বিএনপির কোন অস্থিত্ব থাকতো না।কিন্তু এখন আপনি ঠিক উল্টো করে চলছেন আজকের দিন পর্যন্ত।আপনার কর্মকান্ড গুলো আওয়ামীলীগের অস্তিত্বে আঘাত করার শামীল।আপনি চোখে দেখবেন,,আপনার দেওয়া অর্থনৈতিক জোগানের কারনে বাঁশখালীর জামায়াত শিবির কতটা সক্রিয়।কতটা আগ্রাসী। ওরা আজ আপনার টাকা দিয়ে৷ আমাদের মারছে,আওয়ামী লীগ মারছে।
বলেন না !
এগুলো আপনার লজ্জার কারন নয় কিনা!নিজের সংশোধনের প্রয়োজন টা,নিজে কি অনুভব করেন না।এতো সমালোচনায়ও আপনি নিজেকে......!
কিন্তু কেন?

আমরা সমালোচনা করছি,আপনি কি মনে করেন,তা আমরা ইচ্ছে করে করছি।যতটুকু জানি,আপনি মৌন সম্মতিতে বাধ্য করতেছেন আপনার নামের আগেপিছে জোড়া লাগাতে।আপনার প্রতিটা কর্মকান্ড এক একটা আবরণের সৃষ্টি।

আপনি জামাতি সঙ্গ ত্যাগ করুন,জামাতিদের অর্থনৈতিক জোগান দেওয়া বন্ধ করুন।শিবির ক্যাডারদের ত্যাগ করুন,তখন আপনাআপনি দেখবেন,আওয়ামীলীগের তৃনমূল নেতাকর্মী রা আপনাকে মন থেকে ভালবাসবে।সমালোচনার চেয়ে আলোচনায় রাখবে বেশি।আপনাকে যখন জামাতিরা বেশি ভালবাসে,আর আপনি যখন তাদের মাথায় নিয়ে নাচেন,তখন তো আপনার সমালোচনা করা অনেক ক্ষেত্রে ফরজে কাফেয়া হয়ে দাড়ায়।

প্রিয় ভাই,
আপনার প্রতি আমার বিনীত অনুরোধ,জাতির পিতার অসমাপ্ত আত্মজীবনীর টি পড়ুনু,বাংলাদেশের জম্ম ও আওয়ামী লীগ ইতিহাস পর্যালোচনা করুন।জানুন,পড়ুন,দেখুন ইতিহাসে একজন মীর জাফরের পাশাপাশি মোস্তাকও আছে আলোচনায়। দয়া নিজেকে ঐপথে ধাবিত করবেন না।
বাঁশখালীর আওয়ামী লীগ পরিবার কিন্তু আপনাকে ক্ষমা করবে না।
ইতিহাসের কাডগড়ায় একদিন আপনাকেও খন্দকার মোস্তাকের ভূমিকায় দাড় করাবে।যদি আপনি সংশোধন না হউন।নিজেকে না শুধরান।ইচ্ছাকৃত কিংবা অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য ক্ষমা চান।

যদি পরিবর্তন হউন,তবে শুভকামনা,যদি আওয়ামী লীগ ধবংসের কারন হউন তবে সমালোচনা।

ছারপোকা
জন্ম ১ডিসেম্বড ১৯৭১
পিতাঃ-শেখ মুজিবুর রহমান।

সোমবার, ২৭ আগস্ট, ২০১৮

ছাত্রলীগের একাধিক অভিযোগের পরিপেক্ষিতে সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের বাঁশখালী উপজেলা শাখার সকল কার্যক্রম বাতিল ঘোষনা


সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের বাঁশখালী উপজেলা শাখার সকল কমিটি ও কার্যক্রম বাতিল ঘোষণা করেছে সংগঠনটির কেন্দ্রিয় কমিটি। রাষ্ট্র বিরোধী ষড়যন্ত্রকারিদের অনুপ্রবেশ ও সংঠনের গঠনতন্ত্র পরিপন্থি কাজের অভিযোগের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।  বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় মহাসচিব মাওলানা আবেদ আলী।

আজ (২৫অগাস্ট)  সংগঠনটির জাতীয় সদর দপ্তর থেকে ব্যারিষ্টার মুহাম্মাদ ইউসুফ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতে জানানো হয়, সম্প্রতি চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলা সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের কমিটি ও আওতাধীন বিভিন্ন ইউনিয়ন শাখা কমিটিতে ও রাষ্ট্র বিরোধী ষড়যন্ত্রকারিদের অনুপ্রবেশ ও সংঠনের গঠনতন্ত্র পরিপন্থী কার্যক্রমের অভিযোগ তুলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হোছাইন মোহাম্মদ ও হামিদ হোছাই।
 পরবর্তীতে যুবলীগ নেতা জহির উদ্দীন বাবর,   বাঁশখালী উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা রুমন চৌধু, ফরহাদুল ইসলাম,রওশজম্মান,শামসেদ,আব্দুর রহিম,মিল্টন,এমদাদ,সাইফুল ইসলাম, শহীদুল্লাহ শহীদ,শওকত,হাবিবুল ইসলাম,নোভেল,জোবায়ের চৌধুরী,জুবায়ের ইসলাম।লোকমান,নুরহোসেন,এনাম,বাহার উদ্দিন,
 জয়নাল মিনোহাজ,ফখর উদীন,য়নাল আবেদী, আবদুল্লা, আনসারুল হক,শাহাবুদ্দীন,মোহাম্মদ মানিক, সগির মোহাম্মদ সাগর,রকি, অজস্র ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাঁশখালীর সার্ক কমিটি বাতিলের জোর দাবির পরিপেক্ষিতে কেন্দ্রীয় কমিটি  আন্তর্জাতিক এই সংগঠনের ভাবমূর্তি অক্ষুন্নত রাখতে বাঁশখালী উপজেলার সকল কমিটি বাতিল করা হল।

বিবৃতে আরও বলা হহয়, উক্ত সংগঠনের পরিচয় বহনকরে অত্র অঞ্চলে কোনো প্রকার সাংগঠনিক  কার্যক্রম করতে না পারে এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বাঁশখালী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মহোদয়ের সহযোগিতা কামনা করা হচ্ছে।

সাথে ধন্যবাদসহ জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হোছাইন মোহাম্মদ ও হামিদ হোছাইন সহ বাঁশখালী উপজেলা ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দের প্রতি কৃতজ্ঞ ও অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলের ক্ষমা চেয়েছেন সংশ্লিষ্ট সার্ক সংগঠনের সভাপতি, সাধারন সম্পাদকসহ একাধিক নেতৃবৃন্দ।             

তৈলার দ্বীপ সেতুর নামকরণ মৌলভী সৈয়দের নামে করা হোক।


জাতীর জনক বঙ্গবন্ধুর হত্যার প্রথম প্রতিবাদকারী,চট্টগ্রাম পুর্বাঞ্চলীয় গেরিলা বাহিনীর প্রধান,চট্টগ্রাম নেভাল অপারেশন জেকপট প্রধান বেজ কমান্ডার,চট্টগ্রাম আওয়ামী যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি,বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মৌলভী সৈয়দ আহমদের শাহাদাত বার্ষিকীতে আমার দাবী:
তৈলার দ্বীপ সেতুর নামকরণ মৌলভী সৈয়দের নামে করা হোক।

#অগ্নিশপথ

রবিবার, ২৬ আগস্ট, ২০১৮

১৫ আগস্ট বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিন ব্যারিস্টার মওদুদ কী বলেন ?

১৫ আগস্ট বেগম খালেদা জিয়ার #জন্মদিন ? অবশ্যই না। তবে কেন ? তিনি হঠাৎ ১৯৯৬ সাল থেকে ১৫ আগস্ট তাঁর জন্ম দিন পালন করা শুরু করলেন-এই নিবন্ধ থেকে তা অনেকটা জানা যাবে। #সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট রাতের অন্ধকারে কিছু বিপথগামী সেনাসদস্য স্বপরিবারে হত্যা করে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করে নেয়। #দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ রাষ্ট্র ক্ষমতায় এলে ১৫ আগষ্টকে জাতীয় শোক দিবস হিসেবে ঘোষনা করে এবং দিনটি জাতীয় ভাবে পালনের সরকারী সিন্ধান্ত গৃহীত হয়। আর তখনই একটা হীন মতলবে শোক দিবসের পাল্টা হিসেবে একই দিন বেগম খালেদা জিয়ার জন্ম দিনের উৎসব পালন করার ব্যাপারটির সূত্রপাত ঘটে। প্রত্যেক মানুষের একটি জন্মদিন থাকে। ঘটা করে অনেকে তা পালনও করে থাকেন। আর সেলিব্রেটির জন্মদিন হলে তো কথাই নেই। তা তারা নিজের পালন না করলেও ভক্ত, সমর্থক, অনুসারীরা তা পালন করে থাকেন। বেগম খালেদা জিয়া নিঃসন্দেহে এদেশের অন্যতম একজন সেলিব্রেটি। ১৫ আগস্ট যদি বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিন হতো তাহলে কোন কথাই ছিল না। জাতীয় শোক দিবস হউক বা অন্য যাই হোক না কেন, একই দিনে কারো জন্ম হলে সে কী তার জন্ম দিন পালন করবে না ? অবশ্যই করবে। কিন্তু ১৫ আগস্ট বেগম জিয়ার প্রকৃত জন্ম দিন নয়। এটা তাঁর বানানো জন্ম দিন এবং এই জন্ম দিনের শুরু ১৯৯৬ সালের সাধারণ নির্বাচনের পর। উদ্দেশ্য কেবলমাত্র ঘোষিত জাতীয় শোক দিবসের শোক প্রকাশকে তুচ্ছ, তাচ্ছিল্য, ও খাটো করা। বেগম খালেদা জিয়ার আসল জন্মদিন যা তাঁর পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিয়ের কাবিন এবং ১৯৯১ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর সরকারী সূত্রে গণ

মাধ্যমগুলির রেকর্ডে নথিভুক্ত আছে। ১৯৮১ সালের ৩০শে মে প্রেসিডেন্ট জিয়া নিহত হওয়ার পর থেকেই বিএনপিতে রাজনৈতিক বিশৃংখলা দেখা দেয়। বিএনপির রাজনৈতিক শৃংখলা ফিরিয়ে আনতে বেগম জিয়া রাজনীতিতে আসেন। গৃহবধু থেকে রাজনৈতিক দলের নেত্রী হওয়ার পর বেগম জিয়ার সাফল্য সম্পর্কে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন তাঁরই পিতা ইসকান্দার মজুমদার। তিনি এবং তাঁর স্ত্রী তৈয়বা খাতুন তাঁদের তৃতীয় মেয়ে খালেদা খানম পুতুলের জন্ম, শিক্ষা, বিয়ে, বংশ পরিচয় ও পারিবারিক পরিচয় তুলে ধরেছিলেন ১৯৮৪ সালে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকায়। উক্ত সাক্ষাৎকারের এক অংশে পিতা ইসকান্দার মজুমদার বলেছিলেন, আমার তৃতীয় মেয়ে হচ্ছে খালেদা। খালেদার জন্ম ১৯৪৫ সালের ৫ সেপ্টেম্বর একটি ঐতিহাসিক দিনে, যে দিন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হয়ে বিশ্বের বুকে শান্তি এলো। আমাদের ফ্যামিলি ফিজিসিয়ান ছিলেন ডাঃ অবনী গোস্বামী। তিনি বলেছিলেন আপনার এই মেয়ে অত্যন্ত ভাগ্যবতী হবে। তার নাম আপনারা শান্তি রাখুন। সাপ্রদায়িক পরিস্থিতির কারণে সেটা তখন সম্ভব ছিল না। তাই তার ডাক নাম রাখলাম পুতুল। খালেদা জিয়া সবারই আদরের এবং দেখতে শুনতেও সবার চেয়ে ভালো ছিল। সেজন্য আমরা পুতুল বলেই ডাকতাম। আজো সেই নামেই আমরা ডাকি। তার পুরো নাম ছিল খালেদা খানম। ১৯৬১ সালে খালেদার সাথে জিয়াউর রহমানের বিয়ে হয়। তখন জিয়া ছিল ক্যাপ্টেন। ডি.জি.এফ আইয়ের অফিসার হিসিবে তার পোষ্টিং ছিল দিনাজপুর। জিয়া ছিল আমার স্ত্রীর ভাগ্নে। তার চাচাত বোনের ছেলে। খালেদা সেবার মেট্রিক পরীক্ষা দিয়েছে মাত্র। বিয়ের কয়েক দিন আগে জিয়া আমাদের বাসায় এসে একদিন হঠাৎ করে বলে বসলো আপনারা আগামী শুক্রবারের মধ্যে যদি বিয়ে দেন তাহলে বিয়ে হবে, নইলে আর বিয়েই করব না।
আমরা বললাম বেশ তাই হবে। বিয়ে হয়ে গেল দিনাজপুরের মুদিপাড়ায়। বিয়েতে জিয়ার মামা, নানা ও বিভাগীয় অনেক বন্ধু-বান্ধব উপস্থিত ছিলেন। আমাদের বিয়ে হয়েছে ১৯৩৭ সালের ২৯ মার্চ। আমার স্ত্রীর জন্ম ১৯২৪ সালের মার্চ মাসে। নাম তৈয়বা খাতুন। তার বাপের বাড়ি দিনাজপুরের (বর্তমান পঞ্চগড়ের) চন্দন বাড়িতে। তারা মীর জুমলার বংশধর। বাংলাদেশী টি ফ্যামিলী নামে খ্যাত। এই ফ্যামেলি বক্সার যুদ্ধে বৃটিশ সরকারকে সমর্থন দিয়েছিল। পরে বৃটিশ সরকার তাদেরকে তামার পাতে লেখা সনদ উপহার দেয়। তারা বিনা খরচে ইংল্যান্ড যেতে পারতো। যার ফলে এদের ভিতরে অনেকেই মেম বিয়ে করে বিলেতবাসী হয়ে গেছেন। আমার শ্বশুড় ছিলেন জেলা সাব রেজিষ্টার। আমার স্ত্রীর কোন ভাই নেই। তারা দু’বোন। ঐ সাক্ষাৎকারের আরেক অংশ বেগম খালেদা জিয়ার মা তৈয়বা খাতুন তাঁর মেয়ে সম্পর্কে বলেছিলেন, ‘খালেদা খুব বেশি লেখাপাড়া করত না, তবে লেখাপড়ায় ভাল ছিল। নাচ শিখেছে ওস্তাদের কাছে। অনেক ফাংশনে নেচে পুরস্কার পেয়েছে। গান শুনতে ভাল বাসতো। কথা খুব বেশি বলতো না। লেখাপড়া করেছে প্রথমে মিশনারী কিন্ডারগার্টেন স্কুলে ও পরে দিনাজপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে’। বেগম জিয়ার মা-বাবা প্রদত্ত সাক্ষাৎকার অনুযায়ী তাঁর জন্ম তারিখ ৫ সেপ্টেম্বর ১৯৪৫ সাল এবং লেখাপড়া হাইস্কুল পর্যন্ত। ১৯৬১সালে মেট্রিক পরীক্ষা দেওয়ার পরই তাঁর বিয়ে হয়ে যায়। বিয়ের পর লেখাপড়া করেছিলেন বলে তাঁর মা-বাবা উল্লেখ করেন নাই। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের রেকর্ডে দেখা যায় বেগম জিয়া ১৯৫৪ সালের ১লা জানুয়ারী দিনাজপুর সরকারী বালিকা বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীতে ভর্তি হন। ভর্তি রেজিষ্টার অনুযায়ী তাঁর জন্ম তারিখ ৫ সেপ্টেম্বর ১৯৪৬ সাল। তিনি ঐ বিদ্যালয় থেকে ১৯৬১ সালে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মেট্রিকুলেশন পরীায় অংশ গ্রহণ করেন।
ঢাকা বোর্ডের রেকর্ডে দেখা যায় খালেদা খানম, পিতা মোহাম্মদ এসকান্দর অত্র বোর্ডের আওতাধীন দিনাজপুর কেন্দ্রের দিনাজপুর বালিকা বিদ্যালয় হইতে ১৯৬১ সালে মেট্রিকুলেশন পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করিয়া অকৃতকার্য হন। তাঁহার রোল নম্বর ছিল রোল-দিনা নং এফ-৭৯২। রেকর্ড মুলে তার জন্ম তারিখ ৫ সেপ্টেম্বর ১৯৪৬ সাল। ফলাফলে দেখা যায় তিনি ইংরেজী, ইতিহাস, ভুগোল ও ঐচ্ছিক বিষয়ে অকৃতকার্য হন। বিদ্যালয় ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের রেকর্ড থেকে দেখা যায় তাঁর জন্ম তারিখ ৫ সেপ্টেম্বর ১৯৪৫ সাল এবং তিনি মেট্রিক ফেল করেছেন। পরবর্তীকালে তিনি আর মেট্রিক পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করেছিলেন বলে কোন রেকর্ড ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে নেই। মা-বাবার বক্তব্য অনুযায়ী বেগম জিয়ার জন্ম সাল এবং বিদ্যালয় ও শিক্ষা বোর্ডের রেকর্ডের জন্ম সালের মধ্যে এক বৎসরের পার্থক্য দেখা যায়। এর কারণ হচ্ছে বয়স কমানো। তাই জন্ম তারিখ ঠিক রেখে জন্ম সাল এক বৎসর কমিয়ে দেওয়া হয়। বেগম জিয়ার বিয়ের কাবিনে দেখা যায় তাঁর জন্ম তারিখ ৫ আগস্ট ১৯৪৪ সাল। এর কারণ হচ্ছে ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী বেগম জিয়ার প্রকৃত জন্ম তারিখ ৫ সেপ্টম্বর ১৯৪৫ সাল বা শিক্ষা সনদের জন্ম তারিখ ৫ সেপ্টম্বর ১৯৪৬ সাল অনুযায়ী বিয়ের সময় তার বয়স দাঁড়ায় যথাক্রমে ১৪ বা ১৫ বছর। বিয়ের জন্য আইন সিদ্ধ নয়। তাই আইন সিদ্ধ করার জন্য জন্ম তারিখ এমনভাবে পিছানো হয় যাতে ১৬ বৎসর হয়। এখানে কাবিনের প্রয়োজনে জন্ম সাল এবং মাস পরিবর্তন করা হলেও তারিখ ৫ ঠিক রাখা হয়। ১৯৯১ সালের সাধারণ নির্বাচনে নির্বাচনী ফরমে এবং নির্বাচিত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর বিভিন্ন পত্রিকার অফিসে এবং রেডিও ও টেলিভিশনে সরকারী ভাবে পাঠানো তার জীবন বৃত্তান্তে তার জন্ম দিন ১৯ আগস্ট ১৯৪৫ সাল উল্লেখ করে প্রচার করা হয়, যা ঐ সময়কার পত্র-পত্রিকায় লিড নিউজ আকারে ছাপা হয়।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়া সফর কালে সরকারীভাবে ছাপানো প্রধানমন্ত্রীর জীবন বৃত্তান্তে এবং তাঁর লাল কূটনৈতিক পাসপোর্টে জন্ম তারিখ উল্লেখ আছে ৫ সেপ্টেম্বর ১৯৪৬ সাল। তাছাড়া অন্যান্য আরো অনেক সরকারী রেকর্ড পত্রে তাঁর জন্ম তারিখ ৫ সেপ্টেম্বর উল্লেখ আছে। গত তত্তবধায়ক সরকারের সময় প্রণীত জাতীয় পরিচয় পত্রে দেখা যায় বেগম জিয়ার জন্ম তারিখ ১৫ আগস্ট ১৯৪৭ সাল। এই সন তারিখ যে একেবারে সঠিক নয় তার প্রমাণ তাঁর শিক্ষা সনদ এবং বিয়ের কাবিন। শিক্ষা সনদ অনুযায়ী তিনি ১৯৬১ সালে মেট্রিক পরীক্ষায় অংশ নেন এবং বিয়েও হয় সেই ১৯৬১ সালে। শিক্ষা বোর্ডের নিয়মানুযায়ী একজন শিক্ষার্থীর সাধারণভাবে ১৬ বৎসর বয়সে মেট্রিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে থাকে। বিশেষ কারণে এক দুই বৎসর বেশ কম হতে পারে। তবে ১৪ বৎসরের কম বয়সে মেট্রিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়া যায় না। আবার ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী বিয়ের কনের বয়স কমপক্ষে ১৬ বৎসর পূর্ণ হতে হবে। ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট বেগম জিয়ার জন্ম হলে ১৯৬১ সালে তাঁর বয়স দাঁড়ায় মাত্র সাড়ে ১৩ বৎসর। এই বয়সে মেট্রিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়া বা বিয়ের কাবিন রেজিষ্ট্রি করা মোটেও সম্ভব নয়। সম্প্রতি প্রকাশিত বিএনপির নীতিনির্ধারকদের অন্যতম সিনিয়র নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ লিখিত ‘কারাগারের দিনগুলি’ বইয়ে ১৫ আগস্ট বেগম জিয়ার জন্মদিনকে বিতর্কিত জন্মদিন বলে উল্লেখ করেছেন। বেগম জিয়ার এতগুলো জন্ম তারিখ ও সাল পর্যালোচনা করে দেখা যায় তিনি বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সময় জন্ম সাল বদলিয়েছেন বয়স কমানোর জন্য, বিয়ের কাবিনে জন্ম সাল এবং মাস বদলিয়েছেন বয়স বাড়িয়ে বিয়ে রেজিষ্ট্রি আইন সিদ্ধ করার জন্য। জাতীয় পরিচয় পত্রে জন্মসাল এবং তারিখ বদলিয়েছেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির উদ্দেশ্যে ঘোষিত জাতীয় শোক দিবসের শোককে ম্লান করার জন্য। শোকের দিনে তথাকথিত জন্ম দিনের কেক কেটে আনন্দ উল্লাস, হৈ হুল্লা করার জন্য। যে মহান নেতার আত্মত্যাগ ও আজীবন সংগ্রামের ফসল এই স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। যার বদৌলতে অনেকের মত আজ গৃহবধু ও প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে, বিরোধী দলীয় নেতার আসনে। যে মহান নেতার প্রত্যক হস্তক্ষেপে সে দিন যে গৃহবধুর সংসার টিকে ছিল, আজ সেই গৃহবধু সেই মহান নেতার মৃত্যু দিবসকে ম্লান করার জন্য নিজের ভূয়া জন্মদিন পালন করছেন।
                                                        সংগৃহীত

"আ. লীগের সামনে কঠিন সময়"

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আছে মাত্র ৪ মাস। অক্টোবরের শেষ নাগাদ নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করবে তফসিল। আওয়ামী লীগ সরকার দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে প্রথমবারের মতো টানা দুই মেয়াদ পূর্ণ করতে যাচ্ছে। কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকারের জন্য আগামী ৪ মাস অত্যন্ত কঠিন সময়। আওয়ামী লীগ এই ১২০ দিন সময় কীভবে এবং কতটা রাজনৈতিক দক্ষতায় পার করে সেটি দেখার বিষয়। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগকে অনেকগুলো বড় বাধা পেরুতে হবে। আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও ঈদের দিন নেতাকর্মীদের বলেছেন, ‘এখানে শ্লোগান না দিয়ে এলাকায় যেতে, জনগণের সঙ্গে কথা বলতে।’ ঈদের আনন্দের মধ্যেও প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘সামনে কঠিন সময় আসছে।’

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছে, ডিসেম্বরে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এর আগে আওয়ামী লীগকে অন্তত ৫ টি বড় বাঁধা পেরুতে হবে।

আওয়ামী লীগের এই পাঁচ বাধাগুলো হলো এরকম:

এক. শিক্ষার্থী এবং তরুণ ভোটারদের ক্ষোভ প্রশমন। গত কয়েক মাসে আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সম্পর্কের টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছে। কোটা সংস্কার আন্দোলন, নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমেছে। আগামী ৪ মাসে এই শিক্ষার্থী এবং তরুণদের আবার রাজপথে নামানোর চেষ্টা হতে পারে। তাদের সরকারের মুখোমুখি করার নীল নকশা হবে। শিক্ষার্থী ও তরুণদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাখা এবং সরকারের প্রতিপক্ষ না করা আওয়ামী লীগের জন্য এক কঠিন চ্যালেঞ্জ।

দুই. বর্তমান প্রশাসন এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থা দৃশ্যত সরকারের পক্ষে। কিন্তু এদের মধ্যেও অনেকে আওয়ামী লীগ বিরোধী। অনেকেই আওয়ামী লীগ সেজে ঘাপটি মেরে অপেক্ষায় আছে। অক্টোবরের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে এদের অনেকের চেহারা পাল্টেও যাবে। যেমন গিয়েছিল ২০০১ সালে। এটিও আওয়ামী লীগের জন্য এক কঠিন পরীক্ষা হবে।

তিন. আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিরোধীদলগুলো বিশেষ করে বিএনপির অংশগ্রহণ আওয়ামী লীগের জন্য এক অগ্নিপরীক্ষা। শেষ পর্যন্ত বিএনপি যদি ঐক্যবদ্ধ ভাবে নির্বাচন করে সেক্ষেত্রে তা আওয়ামী লীগকে এক কঠিন লড়াইয়ের সামনে নেবে। আবার যদি বিএনপি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ না নেয়, তাহলে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে না পারার অভিযোগে  অভিযুক্ত হবে  ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। ২০১৪’র মতে, আরেকটি নির্বাচন কি দেশে এবং বিদেশে গ্রহণযোগ্য হবে?

চার. আওয়ামী লীগের দশ বছরের শাসনামলে দলটি ক্রমশ: বন্ধুহীন হয়ে পড়েছে। ১৪ দলের নাম সর্বস্ব রাজনৈতিক দলগুলো ছাড়া আওয়ামী লীগের মিত্র নেই। মুক্ত চিন্তার মানুষের সঙ্গেও আওয়ামী লীগের দূরত্ব হয়েছে। জাতীয় পার্টি, এই আছে, এই নেই।  এরশাদ আস্থাভাজন বন্ধু নন। রাজনীতিতে  আওয়ামী লীগ এত  মিত্রহীন কবে ছিল?

পাঁচ. দীর্ঘ ১০ বছর ক্ষমতায় থাকলেও আওয়ামী লীগ সাংগঠনিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। এই দুর্বলতার প্রধান কারণ কোন্দল এবং বহিরাগতদের অনুপ্রবেশ। এই সংগঠন কঠিন পরিস্থিতি কীভাবে মোকাবেলা করবে সে প্রশ্ন আওয়ামী লীগ নেতাদেরই।

এই পাঁচ বাধা কাটিয়ে তবেই আওয়ামী লীগের তৃতীয়বারে ক্ষমতায় আসার স্বপ্ন পূরণ হবে। আওয়ামী লীগ কি তা পারবে?

বাংলা ইনসাইডার/জেডএm

বঙ্গবন্ধুর প্রকৃত সন্তানরা একবার ক্ষেপে গেলে রাস্তায় চলতে পারবেন না।

চট্রগ্রাম দক্ষিন জেলা আওয়ামীলীগের কথিত অর্থ সম্পাদক, এবং আগামী সংসদ নির্বাচনে বাঁশখালী আসনে নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী তিনি।
বাঁশখালীর মাটিতে আজ পর্যন্ত কখনো জয়বাংলা বলেন নি,আওয়ামীলীগ পরিচয় দিতে তিনি বারবার লজ্জাবোধ করেন বাঁশখালীতে। আওয়ামীলীগের পদে থেকে তিনি সর্বদলীয় ভাবে নির্বাচন করতে চান।জামায়াত, হেফাজত তার কাছে আলেম ওলামা,,তিনি যেন সর্বদলীয় অনাথ আশ্রম খুলেছেন।খুদ-খুড়ার লোভে একজন প্রকৃত বঙ্গবন্ধু অনুসারি তার প্রতিষ্টিত অনাত আশ্রমে নিতে না পারলেও আওয়ামী মুখুশে অনেক পাকি নষ্টবীর্য শিবির কে ঠিকই তার অনাথ আশ্রমে স্থায়ী ভাবে ঠাঁই দিয়েছেন।
আওয়ামীলীগের পদে থাকলেও কোনদিন আওয়ামীলীগের ব্যানারে বাঁশখালীতে সমা সমাবেশ না করলেও সম্প্রতি তিনি জাতীয় পার্টির ছাত্র সংগঠন "ছাত্র সমাজের " ব্যানারে দক্ষিন বাঁশখালী কেন্দ্রীক, শিবির,হেফাজতি,দের ঐক্যবদ্ধ করতে পেরেছেন।
সমগ্র দক্ষিন বাঁশখালীতে তার টাকায় লালিত হয় একাত্তরের নষ্টবীর্য জামায়াত শিবির।জামায়াতের আমির তার কাছে দেবতুল্য। নরঘাতক সাঈদীর চাঁদে যাওয়ার দিন জলদীর সংখ্যালঘু দয়াল হরির হত্যাকারিরা তার কাছে মেধারী সাহসি বীর।জামায়াত আমিরের পিতা তার কাছে বিরাট ওলি, জিন্দাপীর।
পীরের ছেলে তার উপদেষ্টা হবেন এটাই স্বাভাবিক।
জনাব এই সব ভন্ডামি বাদ দেন,আওয়ামীলীগ বিক্রি বন্ধ করেন।জামায়াত,বিএনপি, হেফাজত নিয়ে সর্বদলীয় অনাথ আশ্রমের ব্যানারে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেন।জনকের কালজয়ী আদর্শের সংগঠনকে আর বিক্রি করবেন না।বঙ্গবন্ধুর প্রকৃত সন্তানরা একবার ক্ষেপে গেলে রাস্তায় চলতে পারবেন না।

 

অবশ্য আপনার অনেক টাকা একটা হেলিকপ্টার কিনে নিতে পারবেন হয়তো,কিন্তু জনাব মাটিতে নামতে পারবেন কি??
সাধু সাবধানৃ



গাজী জাহেদ ভাইয়ের টাইমলাইন থেকে 

ইতিহাসের পাঠ


৯৬৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাস।শহীদ আসাদ মতিয়ুরের রক্ত মূলধনের পটভুমিতে সৃষ্ট ঐতিহাসিক গন অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে টগবগ করে ফুটছে বাংলাদেশ।রাজপথ জনপথ বিদির্ন করা শ্লোগান তখন একটাই - "শেখ মুজিবের মুক্তি চাই।"

বাংলার অবিসংবাদী নেতা মুজিব তখনো কারাগারে বন্দী। সেনানিবাসের অভ্যন্তরে আগরতলা  মামলা তখনও চলছে। এর মধ্যে ১৫ ফেব্রুয়ারি খবর এলো পাক সেনাবাহিনী ক্যান্টনমেন্টের অভ্যন্তরে মামলার অন্যতম অভিযুক্ত সার্জেন্ট জহুরুল হককে গুলি করে হত্যা করেছে। এ নির্মম হত্যার খবর নিমিষেই ছড়িয়ে গেলো সবখানে।আর সাথে সাথে রাজপথের মিছিলের শ্লোগানে আসলো ঝটিতি পরিবর্তন। "বীর বাঙালি অস্ত্র ধর,বাংলাদেশ স্বাধীন কর/"জহুরের রক্ত স্বাধীনতার মন্ত্র/" জহুরের রক্ত বৃথা যেতে দেবোনা/" -এই হয়ে গেলো মূল শ্লোগান। তারপরের ইতিহাস সবারই জানা।
     
এরপর ১৯৭০ সালের ১৫ ই ফেব্রুয়ারি পালন করা হয় সার্জেন্ট জহুর দিবস। এসময়েই গঠিত হয়েছিল "ফেব্রুয়ারী ১৫ই বাহিনী" ,পরে যা "জয় বাংলা বাহিনী"তে পরিনত হয়েছিল । সেই বছর সার্জেন্ট জহুরের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী পালন উপলক্ষে একটা বিরাট র‍্যালী আমরা করেছিলাম। অন্যান্য শ্লোগানের সাথে একটা গান আমরা সবাই কোরাসের মত করে গেয়েছিলাম।

"আসাদ-জোহা-মতিয়ুর-রুস্তম
জহুরের রক্তে রক্তনিশান এঁকেছি।
তাইতো মোরা সবকিছু ভুলে
এক মিছিলে মিলেছি।
ভুলিনি তাদের মোরা ভুলিনি
আমরা তাদের মনে রেখেছি।
আকাশের বুকে উজ্জ্বল তারা হয়ে
তারা রবে চির অম্লান"।

সম্ভবত:ছাত্রলীগের সিনিয়র নেতা নাসিরুল ইসলাম বাচ্চু ও কেন্দ্রীয় সংসদের সাহিত্য সম্পাদক এই গানটি লিখেছিলেন। আমার এখনো মনে আছে,ছাত্রনেতা গোলাম ফারুকের সুরে,তাঁর গলায় গলা মিলিয়ে কোরাস পদ্ধতিতে এই গানটা গাইতাম সবাই মিলে।শ্লোগানের ফাঁকে ফাঁকে আমরা গাইতাম এই গান।মনে পড়ে যায়,যেন ভুল না হয়,সেজন্য ডাকসুর প্যাডে আমি স্বহস্তে লিখে রেখেছিলাম সেই অমর গান।আজ আটচল্লিশ বছর পর সবার জন্য ফেসবুকে বয়ান দিলাম সেই গান ;সাথে লিখে রাখা সেই পাতা।
জয় বাংলা।
ফেব্রুয়ারি মাস।শহীদ আসাদ মতিয়ুরের রক্ত মূলধনের পটভুমিতে সৃষ্ট ঐতিহাসিক গন অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে টগবগ করে ফুটছে বাংলাদেশ।রাজপথ জনপথ বিদির্ন করা শ্লোগান তখন একটাই - "শেখ মুজিবের মুক্তি চাই।"

বাংলার অবিসংবাদী নেতা মুজিব তখনো কারাগারে বন্দী। সেনানিবাসের অভ্যন্তরে আগরতলা  মামলা তখনও চলছে। এর মধ্যে ১৫ ফেব্রুয়ারি খবর এলো পাক সেনাবাহিনী ক্যান্টনমেন্টের অভ্যন্তরে মামলার অন্যতম অভিযুক্ত সার্জেন্ট জহুরুল হককে গুলি করে হত্যা করেছে। এ নির্মম হত্যার খবর নিমিষেই ছড়িয়ে গেলো সবখানে।আর সাথে সাথে রাজপথের মিছিলের শ্লোগানে আসলো ঝটিতি পরিবর্তন। "বীর বাঙালি অস্ত্র ধর,বাংলাদেশ স্বাধীন কর/"জহুরের রক্ত স্বাধীনতার মন্ত্র/" জহুরের রক্ত বৃথা যেতে দেবোনা/" -এই হয়ে গেলো মূল শ্লোগান। তারপরের ইতিহাস সবারই জানা।
     
এরপর ১৯৭০ সালের ১৫ ই ফেব্রুয়ারি পালন করা হয় সার্জেন্ট জহুর দিবস। এসময়েই গঠিত হয়েছিল "ফেব্রুয়ারী ১৫ই বাহিনী" ,পরে যা "জয় বাংলা বাহিনী"তে পরিনত হয়েছিল । সেই বছর সার্জেন্ট জহুরের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী পালন উপলক্ষে একটা বিরাট র‍্যালী আমরা করেছিলাম। অন্যান্য শ্লোগানের সাথে একটা গান আমরা সবাই কোরাসের মত করে গেয়েছিলাম।

"আসাদ-জোহা-মতিয়ুর-রুস্তম
জহুরের রক্তে রক্তনিশান এঁকেছি।
তাইতো মোরা সবকিছু ভুলে
এক মিছিলে মিলেছি।
ভুলিনি তাদের মোরা ভুলিনি
আমরা তাদের মনে রেখেছি।
আকাশের বুকে উজ্জ্বল তারা হয়ে
তারা রবে চির অম্লান"।

সম্ভবত:ছাত্রলীগের সিনিয়র নেতা নাসিরুল ইসলাম বাচ্চু ও কেন্দ্রীয় সংসদের সাহিত্য সম্পাদক এই গানটি লিখেছিলেন। আমার এখনো মনে আছে,ছাত্রনেতা গোলাম ফারুকের সুরে,তাঁর গলায় গলা মিলিয়ে কোরাস পদ্ধতিতে এই গানটা গাইতাম সবাই মিলে।শ্লোগানের ফাঁকে ফাঁকে আমরা গাইতাম এই গান।মনে পড়ে যায়,যেন ভুল না হয়,সেজন্য ডাকসুর প্যাডে আমি স্বহস্তে লিখে রেখেছিলাম সেই অমর গান।আজ আটচল্লিশ বছর পর সবার জন্য ফেসবুকে বয়ান দিলাম সেই গান ;সাথে লিখে রাখা সেই পাতা।
জয় বাংলা।

আগামী মাসেই সিআইপি মুজিবদের(অনুপ্রবেশকারীদের)দল থেকে বের করে দিচ্ছে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ

কমিটি প্রধান ডা. দীপু মনি এই প্রতিবেদককে বলেন, আমরা প্রতিটি জেলা, উপজেলা, থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে সার্বিক খোঁজখবর নিয়ে অনুপ্রবেশকারীদের তালিকা তৈরি করেছি। বর্তমানে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগের কোন কোন নেতার সঙ্গে সম্পর্ক করে দলে বিএনপি-জামায়াত অনুপ্রবেশ করেছে সে বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাদের তালিকাও তৈরি করা হচ্ছে।
জানা গেছে, অনুপ্রবেশকারীদের তালিকা চূড়ান্ত করার পর আওয়ামী লীগের বিভাগীয় আট সাংগঠনিক সম্পাদকের সঙ্গে বসবেন শেখ হাসিনা।
দলের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি এই প্রতিবেদককে বলেন, ডা. দীপু মনির নেতৃত্বাধীন কমিটি অনুপ্রবেশকারীদের চিহিৃত করার কাজটি করছেন। তালিকার বিষয়টি কমিটির সদস্যদের বাইরে অন্য নেতারা কিছুই জানেন না। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের স্বার্থেই অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতাকর্মীরা চরম দু:সময়েও শেখ হাসিনার সঙ্গে বেঈমানী করবে না। কিন্তু অনুপ্রবেশকারীরা আওয়ামী লীগের দু:সময়ে বেঈমানী করবে। বিশ্বাসঘাতকতা করবে।
আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী গত ২৩ জুন গণভবনে দলের বিশেষ বর্ধিতসভা করেন শেখ হাসিনা। কেন্দ্রীয় কমিটি, উপদেষ্টা পরিষদ, দলীয় এমপি, মহানগর, উপজেলা, থানা ও পৌরসভার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের নিয়ে সভা করেন তিনি। এরপর দুই ধাপে ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাদের নিয়েও বর্ধিতসভা করেন শেখ হাসিনা। এই বর্ধিতসভায় শেখ হাসিনা অনুপ্রবেশকারীদের ব্যাপারে দলীয় এমপি ও মন্ত্রীদের কড়া হুশিয়ারি দেন। শেখ হাসিনা বলেন, আমার ত্যাগী নেতাকর্মীদের দূরে ঠেলে দিয়ে যারা নিজের দল ভারি করতে বিএনপি-জামায়াতের লোকদের দলে টেনেছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদের আগামীতে মনোনয়ন দেওয়া হবে না।

শনিবার, ২৫ আগস্ট, ২০১৮

Milon Mela of Jamaat Shibir by the hand of CIP Mujib in Banskhali


Banskhali's acting Amir CIP Mujib led the acting Ameer led by Bazkhali Napor, we saw the real picture of all the students held in Tasaki.
Mr.
Mujib, as you should, in whatever way you are, you are the finance secretary of the Chittagong South District Awami League's current committee. After the meeting of your Yesterday, not the finance secretary, you have identified the Awami family of Banskhali as Jamaat's acting Ameer.

Again,
who gave the name of the Awami League in return for the money, they all are a hypocrite like you, Awami League nominated Jamaat's broker.
And you are a bigger Jamaat-e-Islami, it has proved to be the banner of the rally. You are comfortable to sell the name of Auamigalija. But jayabangla jayabangala bayarera jayabangbandhu will die in shame, how is it?

Sir,
Before the Awami League, then sell the name of Awami League. So what did you announce on a stage with the BNP Jamaat Shibir?
Awami League is not an ancestral property of anybody. But the paternal Jatiya Jamaat wants a bigger mind to get the license to sell the Awami League to the BNP.

"বাঁশখালীতে সিআইপি মুজিবের হাত ধরেই জামায়াত শিবিরের মিলন মেলা




বাঁখালীর তথাকথিত বিকর্তিত জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমীর সিআইপি মুজিবের নেতৃত্বে বাঁশখালী নাপোড়ায় অনুষ্ঠিত সর্বস্তরের ছাত্র সমাজের বাস্তব চিত্র দেখে টাসকি খেয়ে গেলাম।
জনাব,
মুজিব সাহেব,আপনি যেভাবেই হউক,যে প্রক্রিয়ায় হউক,আপনি চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামীলীগের বর্তমান কমিটির অর্থ সম্পাদক।আপনার গতকালের সমাবেশের পর অর্থ সম্পাদক নয়,আপনাকে বাঁশখালীর আওয়ামী পরিবার জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমীর হিসেবে চিন্হিত করা করেছে।

আবার প্রমাণ করে দিলেন,
টাকার বিনিময়ে যারা আওয়ামীলীগে নাম লেখায়,তারা সবাই আপনার মতো ভণ্ড লীগ,আওয়ামীলীগ নামধারী জামায়াতের দালাল।
আর আপনি কত বড় জামায়াতের দালাল,তা তো সমাবেশের ব্যানারই প্রমাণ করেছে।আওয়ামীলীগের নাম বিক্রি করতে, আপনি সাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।কিন্তু ব্যানারে জয়বাংলা জয়বঙ্গবন্ধু লিখতে লজ্জায় মরে যাবেন,তা কি করে হয়?

জনাব,
আগে আওয়ামী লীগ হউন,তারপর আওয়ামী লীগের নাম বিক্রি করুন।এভাবে বিএনপি জামায়াত শিবিরকে সাথে নিয়ে এক মঞ্চে দাড়িয়ে আপনি কিসের ঘোষণা দিলেন? আওয়ামীলীগ কারো পৈতৃক সম্পত্তি নই।
কিন্তু পৈতৃক ন্যায় জামায়াত বিএনপির কাছে আওয়ামী লীগ বিক্রি করার লাইসেন্স কই পাইলেন তা জানতে বড় মন চাই।

শুক্রবার, ২৪ আগস্ট, ২০১৮

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ সংশোধন,বিএনপি থেকে সরতে হচ্ছে খালেদা-তারেক

লাদেশের নির্বাচন পরিচালিত হয় গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ১৯৭২ অনুযায়ী। এই আদেশের কিছু কিছু ধারা সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সেই বিবেচনা থেকে আগামী ২৬ আগস্ট রোববার আরপিও সংশোধনের জন্য বৈঠক ডেকেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদের ১(ঘ) ধারার বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি ‘নৈতিক স্খলনজনিত কোনো ফৌজদারী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হইয়া অনূ্যন দুই বৎসরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন এবং তাঁহার মুক্তিলাভের পর পাঁচ বৎসরকাল অতিবাহিত না হইয়া থাকে’ তবে তিনি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য অযোগ্য বিবেচিত হবেন। কিন্তু ৭২ এর আরপিওতে রাজনৈতিক দলগুলোর নেতৃত্বের ক্ষেত্রে দুর্নীতিবাজদের রাখা না রাখার ক্ষেত্রে সুষ্পষ্ট কোনো বক্তব্য নেই।

এই সুষ্পষ্ট কোনো বক্তব্য না থাকার কারণে কোনো রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বে একজন দুর্নীতিবাজ ব্যক্তি বা একাধিক দুর্নীতিবাজ ব্যক্তি আসতে পারেন। আর নেতৃত্বে আসার পর সেই দল যদি নির্বাচনে জয়লাভ করে তাহলে একটি সাংবিধানিক সংকট তৈরি হবে। এই বিবেচনায় নির্বাচন কমিশন মনে করেছে, সংসদ সদস্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে সংবিধানের সঙ্গে আরপিওকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা দরকার। এজন্য আরপিওতে সংশোধন আনা হচ্ছে, কোনো রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বে থাকতে হলে তাঁকে সংবিধান অনুযায়ী যোগ্য বিবেচিত হতে হবে।

এজন্য কোনো রাজনৈতিক দলে দণ্ডিত দুর্নীতিবাজ, যার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে এবং যিনি সংসদ সদস্য পদে নির্বাচিত হওয়ার অযোগ্য, তিনি কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বে থাকতে পারবেন না। যদি তিন কোনো রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বে থাকেন তবে সেই নেতৃত্ব বাতিল বলে বিবেচিত হবে।

খালেদা জিয়া গ্রেপ্তার হওয়ার আগে বিএনপি তাঁদের স্থায়ী কমিটির কোনো বৈঠক ছাড়াই দলের গঠনতন্ত্রের ৭ এর সব উপধারা বিলুপ্ত করে। বিএনপির গঠনতন্ত্রের ৭ ধারায় ‘কমিটির সদস্য পদের অযোগ্যতা` শিরোনামে বলা ছিল, `নিন্মোক্ত ব্যক্তিগণ জাতীয় কাউন্সিল, জাতীয় নির্বাহী কমিটি, জাতীয় স্থায়ী কমিটি বা যেকোনো পর্যায়ের যেকোনো নির্বাহী কমিটির সদস্য পদের কিংবা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের প্রার্থী পদের অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।’ তারা হলেন (ক) ১৯৭২ সালের রাষ্ট্রপতির আদেশ নম্বর ৮ এর বলে দণ্ডিত ব্যক্তি, (খ) দেউলিয়া, (গ) উন্মাদ বলে প্রমাণিত ব্যক্তি, (ঘ) সমাজে দুর্নীতিপরায়ণ বা কুখ্যাত বলে পরিচিত ব্যক্তি। এই উপধারা গুলো বিলুপ্ত করার মধ্য দিয়ে দুর্নীতিবাজদের জন্য বিএনপি দরজা উন্মুক্ত করে।

দেখা যাচ্ছে, খালেদা জিয়া এবং তারেক জিয়া এখনো বিএনপির নেতৃত্বে। এখন আরপিও সংশোধন করে, আদালত কর্তৃক দণ্ডিত কোনো ব্যক্তিকে যদি সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য অযোগ্য বিবেচনা করা হয়, তাহলে তিনি একই ভাবে কোনো রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব প্রদানের জন্য অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। আগামী ২৬ তারিখের আরপিও নিয়ে বৈঠকে এমন সংশোধনীই আনা হচ্ছে।

বিএনপির মহসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের পিতৃ পরিচয় ফাঁস


মির্জা ফকরুলের রাজাকার পিতা মির্জা রুহুল আমিন সমাচার।স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকলীন সময়ে১৯৭১ সালে   মির্জা ফকরুলের পিতা রুহুল আমিন স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী হিসাবে ঠাকুরগাঁও জেলার চিহ্নিত রাজাকার ছিলেন।
  রাজাকার হিসাবে যারা বাঙালিদের হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট ও বাড়ি ঘরে অগ্নি সংযোগ করেছিল তাদের বিচারের জন্য প্রনীত  ১৯৭২ সালের  দালাল আইনের আওতায়  বিচারের জন্য রুহুল আমিন জেলে বন্দী  ছিলেন।
৭৫ এর ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর জিয়া ক্ষমতা দখল করে বিচারের জন্য অনেক বন্দী রাজাকারের সাথে মির্জা ফকরুলের পিতা রুহুল আমিনকেও জেল থেকে মুক্ত করে দেন।
১৯৭৯ তে রুহুল আমিন বিএনপিতে যোগ দিয়ে ঠাকুরগাঁও থেকে এমপি নির্বাচিত হন।জিয়ার মৃত্যুর পর রাজাকার রুহুল আমিন ভোল পাল্টিয়ে এরশাদের জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন।
  এরপরর১৯৮৮ সাল থেকে  এরশাদের পতন না হওয়া জাতীয় পার্টির এমপি ছিলেন।
   এই রাজকার পুত্র মির্জা ফকরুল এখন নাকি স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি।উনি প্রায়শই অভিযোগ করেন আওয়ামীলীগ নাকি স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃতি করছে।

অবশেষে পাওয়া গেলো খুনি রাশিদের মেয়ে শেহনাজ রশিদের স্বামী ফুয়াদ জামানের বাসার ঠিকানা।


ঢাকার বন্ধুরা প্লিজ, এই কুকুরের বাচ্চাটিকে মেরে যদি আইন নিজের হাতে তুলে না নিতে পারেন? অন্তত তার বাসার সামনে গিয়ে একদলা থুথু হলেও গিয়ে ছিটে আসুন। পাশাপাশি তার বাসার সামনে বড় করে একটি সাইনবোর্ড লাগিয়ে দিন, যেন বাসাটির উপর প্রত্যেক নাগরিক থুথু ছিটিয়ে ঘৃণা জানাতে পারে। নতুন প্রজন্ম যেন বুজতে পারে এই বাড়ীটিতেই বাস করে বঙ্গবন্ধু হত্যার একজন আত্নস্বিকৃত খুনীর পরিবারের সদস্যরা।

বাসার ঠিকানাঃ- - হাউজ- ৬৪ (বি-৫ ফ্ল্যাট) রোড-৯/এ, ধানমন্ডি আ/এ, ঢাকা-১২০৯
কর্মস্থানের ঠিকানাঃ- (The Solution Centre) ৫/১৪, ব্লক- ই, লালমাটিয়া, ঢাকা।

আমি মাটিতে সেজদা করতে পারি না:ওবায়দুল কাদের

২১শে আগষ্ট ভয়াবহ গ্রেনেড আমার শরীরে ৯২টি গ্রেনেডের স্পিন্টার বিদ্ধ হয়েছিল ক্ষত বিক্ষত রক্তাক্ত অবস্থায় জড়িয়ে ধরে নেত্রীকে বাঁচাতে পেরেছি।অঞ্জান হয়ে পড়ে গেলে কর্মীরা আমাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

সেখান থেকে ভারতের বাঙ্গালোর একটি হাসপাতালে অপারেশন করে ৫০টি স্পিন্টার বের করা হয়।এখনো শরীরে অনেকগুলো স্পিন্টার রয়ে গেছে ব্যথায় ঘুমোতে পারি না অনেক রাত জেগে থাকি ঔষধ খেয়ে বেঁচে আছি।মাটিতে সেজদা দিয়ে নামাজ পড়তে পারি না চেয়ারে বসে নামাজ আদায় করি।আপনাদের খেদমতের জন্য,আপনাদের দোয়ায় আল্লাহ্ আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন।


সত্যের কল বাতাসে নড়ে,ইতিহাস কে কখনো শৃঙ্খলে বেধে রাখা যায় না।


ঙ্গলবার ২১ আগস্ট সকালে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে  তাঁর চিকিৎসকরা দেখা করতে যান।
জিয়া এতিমখানা দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের জন্য দণ্ডিত হয়ে গত ছয় মাস ধরে রাজধানীর নাজিম উদ্দিন রোডের পুরোনো ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন বেগম জিয়া। আজ কারাগারে সিভিল সার্জনও ছিলেন। চিকিৎসকরা খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর খালেদা জিয়া কথা বলার জন্য কিছুক্ষণ বসতে বলেন তাঁদের।
এ সময় চিকিৎসকদের সঙ্গে খালেদা জিয়ার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বিভিন্ন মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন বিষয়েও কথা হয় এসময়। এক পর্যায়ে খালেদা জিয়া ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার প্রসঙ্গে কথা বলেন। বেগম জিয়া চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে বলেন, আজকে যে তিনি কারাগারে এর কারণ এতিমখানা মামলা নয়। ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার জন্যই আজ তাঁর এই পরিণতি।
খালেদা জিয়া বলেন, গ্রেনেড হামলাটি ছিল তারেক জিয়ার একটি ভুল সিদ্ধান্ত। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী হলেও বিষয়টি তিনি জানতেন  না বলে উল্লেখ করেন খালেদা জিয়া। কিন্তু বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের অনেকেই ঘটনাটি জানতো।
খালেদা জিয়া চিকিৎসকদের বলেন, ঘটনার পরে তিনি বিষয়টি জানতে পারেন। কিন্তু তখন তাঁর আর কিছু করার ছিল না।
কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি চাইলেই গ্রেনেড হামলার সুবিচারের বন্দোবস্ত করতে পারতেন। কিন্তু তা না করে খালেদা জিয়া ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন।
সবশেষে বিএনপির রাজনীতির এখন যে দুরবস্থা তাঁর মূল কারণ হিসেবে ২১ আগস্টের কথা উল্লেখ করেন কারাবন্দী খালেদা জিয়া।
২১ আগস্টের পর বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার গ্রেনেড হামলার তদন্তে গড়িমসি করেছিল। তবে পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসলে নতুন উদ্যমে মামলার তদন্ত কাজ শুরু করে সিআইডি। তদন্ত শেষে ২০১১ সালের ৩ জুলাই ৩০ জনকে আসামি করে আদালতে সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করা হয় যার মধ্যে অন্যতম আসামি হিসেবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়ার নাম উল্লেখ করা হয়। আদালতের বিভিন্ন কার্যক্রমেও তারেক জিয়ার অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে। এই গ্রেনেড হামলার মামলার রায় যে কোনো সময় ঘোষিত হতে পারে। রায়ে তারেক জিয়ার দণ্ডিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এর আগে চলতি মাসের মাঝামাঝি খালেদা জিয়া কারা কর্মকর্তাদের কাছে তাঁর ভুয়া জন্মদিনের কথাও স্বীকার করেছিলেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করা হয়। জাতীয় শোক দিবসের দিনটিকে অবমাননা করার জন্য রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ১৯৯৬ সাল থেকে ১৫ আগস্টকে বেগম জিয়া জন্মদিন হিসেবে পালন করে আসছিলেন। সপ্তাহখানেক আগে জাতীয় শোক দিবসে কারা কর্মকর্তারা বেগম খালেদা জিয়ার কাছে জানতে চান, আজ তো আপনার জন্মদিন, জন্মদিন উপলক্ষে আপনার জন্য বিশেষ কিছুর আয়োজন করবো? উত্তরে তখন খালেদা জিয়া পরিষ্কার ভাবে বলেছিলেন, তাঁর জন্মদিন সেপ্টেম্বর মাসে, ১৫ আগস্ট নয়।’
এসব স্বীকারোক্তির ঘটনায় মনে করা হচ্ছে, দীর্ঘদিন কারাবন্দী থেকে খালেদা জিয়ার শুভ বুদ্ধির উদয় হয়েছে। কারাগারের একাকীত্ব সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে অনুশোচনা, অনুতাপের জন্ম দিয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া এতিমখানা দুর্নীতি মামলায় বেগম জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত। ওই দিনই পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের পুরানো ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয় বেগম জিয়াকে। চলতি আগস্টের ৮ তারিখ বেগম জিয়ার কারাজীবনের ছয় মাস পূর্ণ হয়। একই মামলায় বেগম জিয়ার বড় ছেলে ও বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক জিয়াসহ পাঁচজনকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

আপনি বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আওয়ামী লীগের কর্মীদের মা

আপনি বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আওয়ামী লীগের কর্মীদের মা, সেই মায়ের কাছে এক সন্তানের আবদার এবং অধিকার নিয়ে বলছি মা আপনি আপনার সন্তানের দুঃখের সময় পাশে থাকবে সন্তানরা সেইটাই আশা করে মা আমি একজন আওয়ামী লীগের কর্মী ১৯৯০ সাল থেকে দলের সাথে ছিলাম এখন আছি ২০০১ সাল থেকে ২০০৮সালের পর্যন্ত দলের জন্য অনেক কিছু করেছি মা এবং দলের জন্য অনেক টাকাও খরচ করেছি মা, ঢাকা ১১,আসনে ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এ কে এম রহমত উল্লার জন্য ৫০০০০০, পাঁচ লাখ টাকা খরচ করে নির্বাচন করেছি আমি, সেই আমি এখন ভাত খেতে পারিনা মা ঘর ভাড়া দিয়ে থাকতে পারিনা আমার ছেলেরা ইংলিশ মিডিয়াম পড়তো এখন আমি তাদের পাড়াতে পারিনা মা এর কারণ রহমত উল্লার ভাগিনা ফারুক আমার একটা জমি ছিলো মা বাডডাতে সেই জমির দখলের জন্য আমি ফারুকের কাছে যাই তখন সে আমার কাছে ৭০০০০০,লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন আমি টাকা দিতে অস্বীকার করাতে আমার জীবনে নেমে আসে অন্ধকার প্রথমে আমার ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানে বাড়িওয়ালা বিএনপির নেতা হাসেমকে দিয়ে আমার প্রতিষ্ঠানে তালা ঝুলিয়ে দেয় কিন্তু সে আমার কাছে কোনো টাকা পয়সা পেতো না, আমি অগ্ৰমী ভাড়া বাবদ বাড়িওয়ালা কাছে ২০০০০০,দুই লাখ টাকা পাওনা ছিলাম,এর জন্য আমি বাড্ডা থানায় জিডি করলে আমাকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি দিতে থাকে এক সময় এমপির ভাগিনা আমাকে ফোন করে আপোষ মিমাংশার কথা বলে আমি তখন তাদের কথা রাজি না হওয়াতে ফারুকের নেতৃত্বে আমার প্রতিষ্ঠান লুটপাট করে নিয়ে যায় বিএনপির নেতা হাসেম এবং ফারুক গং যেখানে আমার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ২, কোটি টাকা,মা আজ আমি
রাস্তার ভিক্ষারি মা আমার থাকার একটি ঘর ও নেই মা ভাড়া দিয়ে ও থাকতে পারছিনা মা, যদি আপনি আপনার কর্মীদের সন্তান মনে করেন মা তাহলে এই সন্তানের বিচার টা করবেন মা, আমরা যে আপনার বাধ্য সন্তান মা আপনার কিছু হলে মা আমার হ্নদয়ে রক্তক্ষরণ হয় মা এতোটা ভালোবাসি আপনাকে এবং আওয়ামী লীগকে মা, আপনার দীর্ঘায়ু কামনা করে বিদায় নিচ্ছি মা আমার জননেত্রী শেখ হাসিনা আমার মা তুমি, জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু জয় হোক বঙ্গ কন্যার,এটা বঙ্গ কন্যার বাংলাদেশ আমরা পালন করবো আপনার নির্দেশ
আমি আবদুল আজিজ অটল, বর্তমান
ঠিকানা বনানী কাচা বাজারের বিপরীতে
বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব এম এ কাদের খান ভাইয়ের অফিস

ঈদের ছুটিতে কক্সবাজার গেলে আমাদের সাইনবোর্ডগুলো দেখে আসবেন


১-এর গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবিতে আজ শহরের নিম্নোক্ত ০৫টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সাইনবোর্ড বসানো হলঃ

০১. মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ড জেলা ইউনিট এর সামনে

০২. রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি কক্সবাজার জেলা ইউনিট এর সামনে

০৩. ৬ নাম্বার গোলচত্বর ও বিমান বন্দর রোড এর সামনে

০৪. জেলা প্রশাসক ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারের প্রধান কার্যালয় এর সামনে

০৫.ডায়বেটিস পয়েন্টে

এই শহরে আমাদের ২০টি গুরুত্বপূর্ণ স্পটে সাইনবোর্ড বসানোর পরিকল্পনা আছে।

গত ঈদের পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য সাইনবোর্ড বসানো হয়েছিল কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে। এইবার কক্সবাজার।

সামনে সারা বাংলাদেশ...
হতো, বঙ্গবন্ধুর মুক্তি চাই।/তবে বিশ্ব পেত এক মহান নেতা, আমরা পেতাম ফিরে জাতির পিতা।'']


"পৃথিবীর সেরা ব্যক্তিত্বের একজন বঙ্গবন্ধু খ্যাত বাঙ্গালী জাতীর শ্রেষ্ট সন্তান শেখ মুজিবর রহমান। বঙ্গবন্ধু শুধু বাঙ্গালী জাতীর গর্ব নয় তিনি সমগ্র বিশ্বের একজন মহান নেতা ও নেতৃত্ব। দূর্বার সাহসী বাঙ্গালী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান। বাঙ্গালীর কাছে বঙ্গবন্ধুর মর্যাদা হিমালয়ের চূড়ার চেয়েও অনেক উঁচুতে। 

ছাত্রজীবন থেকেই তিনি ছিলেন অসাধারণ ব্যক্তিত্ব। দেশের স্বাধিনতার ইতিহাসে বঙ্গবন্ধু একটি স্বপ্নের বাস্তবায়ন। মাথানত না করার নাম বঙ্গবন্ধু। লাল সবুজের বৃত্তে মোড়ানো একটি স্বাধীন পতাকা ও স্বাধীন বাংলাদেশের নাম বঙ্গবন্ধু। হাজার বছরের শ্রেষ্ট বাঙ্গালী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবরের কোন তুলনায়ই হয়না। 

পৃথিবীর অন্যতম একটি আচার্য্য বঙ্গবন্ধু ও তাঁর স্বপ্নের লালিত স্বাধীন বাংলাদেশ। লক্ষ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে ঘোর অমানীষা বেঁধিয়ে ভোরের রাঙ্গাপ্রভাত সোনালী সূর্যের উদয় ঘটিয়েছিল বাংলার সাহসী বীর সন্তান শেখ মজিবুর রহমান। পরাধীনতার শিকল চূর্ণবিচূর্ণ করে, হানাদার বাহিনীকে কুপোকাত করে বাঙ্গালীকে এনে দিয়েছেন মহামুল্যবান রত্ন স্বাধীনতা নামক সূর্যটি। 

আজ আমরা তাঁর ত্যাগের মধ্য দিয়ে পেয়েছি স্বাধীন ভূ-খন্ড, নিজস্ব ভাষা, সার্বভৌম ক্ষমতা। সবমিলিয়ে আমরা বিজয়ী বাঙ্গালী। কিন্তু উৎপাতে থাকা হায়েনা বঙ্গবন্ধুকে স্বাভাবিকভাবে মরতে দেয়নি। রাতের আঁধারে গভীর অমানীষায় বঙ্গবন্ধুকে স্ব-পরিবারে হত্যা করেছে। দিনটি ছিল ১৫ই আগস্ট। 

আজকের দিনে আমরা হারালাম স্বাধীনতার বরপুত্র, বীর বাঙ্গালীর শ্রেষ্ট সন্তানকে। বঙ্গবন্ধু মরেনি, তিনি মরতে পারেনা। তিনি অমরত্বের সুধা পান করেছে মাত্র। তিনি আজও আমাদের সাহসের সঞ্চার যোগায়, তিনি শত্রুর বিরোদ্ধে লড়ে যাবার সাহস যোগায়। 

পৃথীবিতে যতদিন একজন, কেবলমাত্র একজন বাঙ্গালী বেঁচে থাকবে ততোদিন বেঁচে থাকবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান। আজও শ্রদ্ধার সাথে স্বরণ করছি বাঙ্গালী, বাঙ্গলা মায়ের অকুতোভয় বীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে।" -শিব্বির আহমদ রানা


--বঙ্গবন্ধুর জীবন থেকে নেওয়া--
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের জীবন ও রাজনীতি, বাঙালির ঐতিহাসিক বিবর্তন ধারায়, একটি ভৌগোলিক সীমারেখায় স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বাঙালির হাজার বছরের আশা-আকাঙ্ক্ষা, বেদনা-বিক্ষোভ ও আবহমান বাংলার ঐতিহ্যকে তিনি নিজের চেতনায় আত্মস্থ করেছেন। তার কণ্ঠে বাঙালি জাতির সার্বিক মুক্তির আকাঙ্ক্ষা প্রতিধ্বনিত হয়েছে। 

বঙ্গবন্ধু সাম্রাজ্যবাদবিরোধী জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের মূর্ত প্রতীক। জাতির মুক্তি সংগ্রামের নিবেদিতপ্রাণ উৎসর্গীকৃত সন্তানদের একজন। তিনি স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটির প্রতিষ্ঠাতা। তিনি আমাদের বিস্মৃত জাতিসত্তাকে জাগ্রত করে দিয়েছেন। যুগ যুগ ধরে পরিচালিত মুক্তি-সংগ্রাম, রাজনৈতিক কর্মকা- ও বিভিন্ন নেতার দর্শন শেখ মুজিবুরের রাজনৈতিক জীবন ও চিন্তাভাবনাকে প্রভাবিত করেছে। 

একজন মানুষ হিসেবে শেখ মুজিবুর রহমানের মহত্ত্ব এখানে যে, বাঙালি জাতির মুক্তির জন্য তিনি লড়াই করেছেন। তিনি তার সমস্ত জীবন, চিন্তাভাবনা ও শ্রম উৎসর্গ করেছিলেন এই জন্য যে এদেশের মানুষ যেন খেয়ে-পরে সুখে-শান্তিতে বাঁচতে পারে, আত্মমর্যাদা নিয়ে বিশ্বের দরবারে নিজেদের ন্যায্য স্থান পেতে পারে। মাথা উঁচু করে কথা বলতে পারে তাদের অধিকার নিয়ে।


১৯২০ : জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার (বর্তমানে জেলা) টুঙ্গিপাড়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন। শেখ লুৎফর রহমান ও মোসাম্মৎ সাহারা খাতুনের চার কন্যা ও দুই পুত্রের মধ্যে তৃতীয় সন্তান শেখ মুজিব। বাবা-মা ডাকতেন খোকা বলে। খোকার শৈশবকাল কাটে টুঙ্গি-পাড়ায়।


১৯২৭ : ৭ বছর বয়সে গিমাডাঙ্গা প্রাইমারি স্কুলে পড়াশোনা শুরু করেন। নয় বছর বয়সে গোপালগঞ্জ পাবলিক স্কুলে তৃতীয় শ্রেণীতে ভর্তি হন। পরে তিনি স্থানীয় মিশনারি স্কুলে ভর্তি হন।


১৯৩৪ : ১৪ বছর বয়সে বেরিবেরি রোগে আক্রান্ত হলে তার একটি চোখ কলকাতায় অপারেশন করা হয় এবং চক্ষুরোগের কারণে তার লেখাপড়ার সাময়িক বিরতি ঘটে।


১৯৩৭ : চক্ষুরোগে চার বছর শিক্ষাজীবন ব্যাহত হওয়ার পর শেখ মুজিব পুনরায় স্কুলে ভর্তি হন।


১৯৩৮ : ১৮ বছর বয়সে বঙ্গবন্ধু ও বেগম ফজিলাতুন্নেছার বিয়ে সম্পন্ন হয়। তারা দুই কন্যা শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা ও তিন পুত্র শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শেখ রাসেল এর জনক-জননী।


১৯৩৯ : অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী গোপালগঞ্জ মিশনারি স্কুল পরিদর্শনে এলে বঙ্গবন্ধু স্কুলের ছাদ দিয়ে পানি পড়ত তা সারাবার জন্য ও ছাত্রাবাসের দাবি স্কুল ছাত্রদের পক্ষ থেকে তুলে ধরেন।


১৯৪০ : শেখ মুজিব নিখিল ভারত মুসলিম ছাত্র ফেডারেশনে যোগদান করেন এবং এক বছরের জন্য বেঙ্গল মুসলিম ছাত্র ফেডারেশনের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। তাকে গোপালগঞ্জ মুসলিম ডিফেন্স কমিটির সেক্রেটারি নিযুক্ত করা হয়।


১৯৪২ : এস.এস.সি পাস করেন। কলকাতা ইসলামিয়া কলেজে মানবিক বিভাগে ইন্টারমিডিয়েট ক্লাসে ভর্তি হন এবং বেকার হোস্টেলে থাকার ব্যবস্থা হয়। বঙ্গবন্ধু এই বছরেই পাকিস্তান আন্দোলনের সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হয়ে পড়েন।


১৯৪৩ : সক্রিয় রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন এবং মুসলিম লীগের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন।


১৯৪৪ : কুষ্টিয়ায় অনুষ্ঠিত নিখিল বঙ্গ মুসলিম ছাত্রলীগের সম্মেলনে যোগদান এবং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। কলকাতাস্থ ফরিদপুর বাসীদের একটি সংস্থা ‘ফরিদপুরস্থ’ ডিসট্রিক্ট অ্যাসোসিয়েশন’-এর সম্পাদক নির্বাচিত হন।


১৯৪৬ : বঙ্গবন্ধু ইসলামিয়া কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) নির্বাচিত হন।


১৯৪৭ : কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইসলামিয়া কলেজ থেকে বি.এ পাশ করেন। ভারত ভাগ হয়ে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হলে কোলকাতায় দাঙ্গা প্রতিরোধ তৎপরতায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।


১৯৪৮ : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে ভর্তি হন এবং ৪ জানুয়ারি মুসলিম ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করেন। ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিম উদ্দিন আইন পরিষদে ‘পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে মেনে নেবে’ বলে ঘোষণা দিলে তাৎক্ষণিক-ভাবে বঙ্গবন্ধু এর প্রতিবাদ জানান। খাজা নাজিমুদ্দিনের বক্তব্যে সারাদেশে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। শেখ মুজিব মুসলিম লীগের এই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে আন্দোলনের প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য কর্মতৎপরতা শুরু করেন। বঙ্গবন্ধু ছাত্র ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সাথে যোগাযোগ করেন।


২ মার্চ ভাষা প্রসঙ্গে মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে আন্দোলনকে সংগঠিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মীদের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ফজলুল হক মুসলিম হলে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বঙ্গবন্ধুর প্রস্তাবক্রমে ‘সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয়। 

সংগ্রাম পরিষদ বাংলা ভাষা নিয়ে মুসলিম লীগের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে ১১ মার্চ সাধারণ ধর্মঘট আহ্বান করে। ১১ মার্চ বাংলা ভাষার দাবিতে ধর্মঘট পালনকালে বঙ্গবন্ধু সহকর্মীদের সাথে সচিবালয়ের সামনে বিক্ষোভরত অবস্থায় গ্রেপ্তার হন। 

বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তারে সারাদেশে ছাত্রসমাজ প্রতিবাদে ফেটে পড়ে। মুসলিম লীগ সরকার ছাত্রদের আন্দোলনের চাপে বঙ্গবন্ধুসহ গ্রেপ্তারকৃত ছাত্র নেতৃবৃন্দকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। বঙ্গবন্ধু ১৫ মার্চ মুক্তি লাভ করেন। বঙ্গবন্ধু মুক্তি লাভের পর ১৬ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে ছাত্র-জনতার সভার আয়োজন করা হয়। 

এই সভায় বঙ্গবন্ধু সভাপতিত্ব করেন। সভায় পুলিশ হামলা চালায়। পুলিশি হামলার প্রতিবাদে সভা থেকে বঙ্গবন্ধু ১৭ মার্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্মঘট পালনের আহ্বান জানান। ১১ সেপ্টেম্বর ফরিদপুরে কর্ডন প্রথার বিরুদ্ধে আন্দোলন করার জন্য তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।


১৯৪৯ : ২১ জানুয়ারি শেখ মুজিব কারাগার থেকে মুক্তি পান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীরা তাদের দাবি-দাওয়া আদায়ের উদ্দেশ্যে ধর্মঘট ঘোষণা করলে বঙ্গবন্ধু ধর্মঘটের প্রতি সমর্থন জানান। কর্মচারীদের এ আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়ার অভিযোগে ২৯ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অযৌক্তিকভাবে তাকে জরিমানা করে। 

তিনি এ অন্যায় নির্দেশ ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেন। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিস্কৃত হন। ১৯ এপ্রিল উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান ধর্মঘট করার কারণে গ্রেপ্তার হন। ২৩ জুন পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠিত হয় এবং জেলে থাকা অবস্থায় বঙ্গবন্ধু এ দলের যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত হন। জুলাই মাসের শেষের দিকে মুক্তিলাভ করেন। জেল থেকে বেরিয়েই দেশে বিরাজমান প্রকট খাদ্য সংকটের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগঠিত করতে থাকেন। সেপ্টেম্বরে ১৪৪ ধারা ভঙ্গের দায়ে গ্রেপ্তার হন ও পরে মুক্তি লাভ করেন। 

১১ অক্টোবরে অনুষ্ঠিত আওয়ামী মুসলিম লীগের সভায় নূরুল আমিনের পদত্যাগ দাবি করেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খানের আগমন উপলক্ষে আওয়ামী মুসলিম লীগ ভুখা মিছিল বের করে। এই মিছিলে নেতৃত্ব দেবার জন্য ১৪ অক্টোবর শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এবারে তাকে প্রায় দু বছর পাঁচ মাস জেলে আটক রাখা হয়।


১৯৫২ : ২৬ জানুয়ারি খাজা নাজিমুদ্দিন ঘোষণা করেন ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে উর্দু’। এর প্রতিবাদে বন্দী থাকা অবস্থায় ২১ ফেব্রুয়ারিকে রাজবন্দি মুক্তি এবং বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি দিবস হিসেবে পালন করার জন্য বঙ্গবন্ধু রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের প্রতি আহ্বান জানান। ১৪ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু এ দাবিতে জেলখানায় অনশন শুরু করেন। 

২১ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ছাত্র সমাজ ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল বের করে। মিছিলে পুলিশ গুলি চালালে সালাম, বরকত, রফিক, শফিউর শহীদ হন। বঙ্গবন্ধু জেলখানা থেকে এক বিবৃতিতে ছাত্র মিছিলে পুলিশের গুলিবর্ষণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। একটানা ১৭ দিন অনশন অব্যাহত রাখেন। 

জেলখানা থেকে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার দায়ে তাকে ঢাকা জেলখানা থেকে ফরিদপুর জেলে সরিয়ে নেওয়া হয়। ২৬ ফেব্রুয়ারি ফরিদপুর জেল থেকে তিনি মুক্তিলাভ করেন। ডিসেম্বর মাসে তিনি “পিকিং”-এ বিশ্বশান্তি সম্মেলনে যোগদান করেন।


১৯৫৩ : ৯ জুলাই পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিলে তিনি দলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। পাকিস্তান গণপরিষদের সাধারণ নির্বাচনে মুসলিম লীগকে পরাজিত করার লক্ষ্যে মওলানা ভাসানী, এ কে ফজলুল হক ও শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মধ্যে ঐক্যের চেষ্টা হয়। এই লক্ষ্যে ১৪ নভেম্বর দলের বিশেষ কাউন্সিল ডাকা হয় এবং এতে যুক্তফ্রন্ট গঠনের প্রস্তাব গৃহীত হয়।


১৯৫৪ : ১০ মার্চ প্রথম সাধারণ নির্বাচনে ২৩৭টি আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট লাভ করে ২২৩ আসন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ পায় ১৪৩টি আসন। বঙ্গবন্ধু গোপালগঞ্জের আসনে মুসলিম লীগের প্রভাবশালী নেতা ওয়াহিদুজ্জামানকে ১৩ হাজার ভোটে পরাজিত করে নির্বাচিত হন। ১৫ মে বঙ্গবন্ধু প্রাদেশিক সরকারের কৃষি ও বন মন্ত্রীর দায়িত্ব লাভ করেন। ৩০ মে কেন্দ্রীয় সরকার যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রীসভা বাতিল করে দেয়। ৩০ মে বঙ্গবন্ধু করাচী থেকে ঢাকায় প্রত্যাবর্তন করেন এবং গ্রেপ্তার হন। ২৩ ডিসেম্বর তিনি মুক্তি লাভ করেন।


১৯৫৫ : ৫ জুন বঙ্গবন্ধু গণপরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ১৭ জুন ঢাকার পল্টন ময়দানের জনসভা থেকে পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন দাবি করে ২১ দফা ঘোষণা করা হয়। ২৩ জুন আওয়ামী লীগের কার্যকরী পরিষদে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যে, পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন প্রদান করা না হলে দলীয় সদস্যরা আইনসভা থেকে পদত্যাগ করবেন।


২১ অক্টোবর আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে দলের নাম থেকে ‘মুসলিম’ শব্দ প্রত্যাহার করা হয় এবং বঙ্গবন্ধু পুনরায় দলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।


১৯৫৬ : ৩ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ মুখ্যমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করে খসড়া শাসনতন্ত্রে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনে বিষয়টি অন্তর্ভুক্তির দাবি জানান। ১৪ জুলাই আওয়ামী লীগের সভায় প্রশাসনে সামরিক বাহিনীর প্রতিনিধিত্বের বিরোধিতা করে একটি সিদ্ধান্ত প্রস্তাব গৃহীত হয়। এই সিদ্ধান্ত প্রস্তাব আনেন বঙ্গবন্ধু। 

৪ সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে খাদ্যের দাবিতে ভুখা মিছিল বের করা হয়। চকবাজার এলাকায় পুলিশ মিছিলে গুলি চালালে ৩ জন নিহত হয়। ১৬ সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধু কোয়ালিশন সরকারের শিল্প, বাণিজ্য, শ্রম, দুর্নীতি দমন ও ভিলেজ এইড দপ্তরের মন্ত্রীর দায়িত্ব লাভ করেন।


১৯৫৭ : সংগঠনকে সুসংগঠিত করার উদ্দেশ্যে ৩০ মে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শেখ মুজিব মন্ত্রীসভা থেকে পদত্যাগ করেন। ৭ আগস্ট তিনি চীন ও সোভিয়েত ইউনিয়নে সরকারি সফর করেন।


১৯৫৮ : ৭ অক্টোবর পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী প্রধান মেজর জেনারেল আইয়ুব খান সামরিক শাসন জারি করে রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। ১১ অক্টোবর বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং একের পর এক মিথ্যা মামলা দায়ের করে হয়রানি করা হয়। প্রায় চৌদ্দ মাস জেলখানায় থাকার পর তাকে মুক্তি দিয়ে পুনরায় জেলগেটেই গ্রেপ্তার করা হয়। 

১৯৬১ ৭ ডিসেম্বর হাইকোর্টে রিট আবেদন করে তিনি মুক্তি লাভ করেন। সামরিক শাসন ও আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু গোপন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন। এ সময়ই বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের লক্ষ্যে কাজ করার জন্য বিশিষ্ট ছাত্র নেতৃবৃন্দের দ্বারা ‘স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ’ নামে একটি গোপন সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।


১৯৬২ : ৬ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে জননিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার করা হয়। ২ জুন চার বছরের সামরিক শাসনের অবসান ঘটলে ১৮ জুন বঙ্গবন্ধু মুক্তি লাভ করেন। ২৫ জুন বঙ্গবন্ধুসহ জাতীয় নেতৃবৃন্দ আইয়ুব খানের মৌলিক গণতন্ত্র ব্যবস্থার বিরুদ্ধে যৌথ বিবৃতি দেন। ৫ জুলাই পল্টনের জনসভায় বঙ্গবন্ধু আইয়ুব সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন। 

২৪ জুলাই পল্টনের জনসভায় বঙ্গবন্ধু আইয়ুব সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন। ২৪ সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধু লাহোর যান, এখানে শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে বিরোধী দলীয় মোর্চ জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট গঠিত হয়। অক্টোবর মাসে গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের পক্ষে জনমত সৃষ্টির জন্য তিনি শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সাথে সারা বাংলা সফর করেন।


১৯৬৩: সোহরাওয়ার্দী অসুস্থ হয়ে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে অবস্থানকালে বঙ্গবন্ধু তার সঙ্গে পরামর্শের জন্য লন্ডন যান। ৫ ডিসেম্বর সোহরাওয়ার্দী বৈরুতে ইন্তেকাল করেন।


১৯৬৪: ২৫ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে অনুষ্ঠিত এক সভায় আওয়ামী লীগকে পুনরুজ্জীবিত করা হয়। এই সভায় দেশের প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের ভোটের মাধ্যমে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তনের দাবি সাধারণ মানুষের ন্যায্য অধিকার আদায় সম্বলিত প্রস্তাব গৃহীত হয়। সভায় মাওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশ ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব যথাক্রমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। 

১১ মার্চ বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদ গঠন হয়। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দাঙ্গা প্রতিরোধ কমিটি গঠিত হয়। দাঙ্গার পর আইয়ুব বিরোধী ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য বঙ্গবন্ধুর উদ্যোগ গ্রহণ। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ১৪ দিন পূর্বে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করা হয়।


১৯৬৫ : শেখ মুজিবের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতা ও আপত্তিকর বক্তব্য প্রদানের অভিযোগে মামলা দায়ের। এক বছরের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে হাইকোর্টের নির্দেশে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তিনি মুক্তিলাভ করেন।


১৯৬৬ : ৫ ফেব্রুয়ারি লাহোরে বিরোধী দলসমূহের জাতীয় সম্মেলনের বিষয় নির্বাচনী কমিটিতে বঙ্গবন্ধু ঐতিহাসিক ৬ দফা দাবি পেশ করেন। প্রস্তাবিত ৬ দফা ছিল বাঙালি জাতির মুক্তি সনদ। ১ মার্চ বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। বঙ্গবন্ধু ৬ দফার পক্ষে জনমত সৃষ্টির উদ্দেশ্যে সারা বাংলায় গণসংযোগ সফর শুরু করেন। 

এ সময় তাকে সিলেটে, ময়মনসিংহ ও ঢাকায় বার বার গ্রেপ্তার করা হয়। বঙ্গবন্ধু এ বছরের প্রথম তিন মাসে আট বার গ্রেপ্তার হন। ৮ মে নারায়ণগঞ্জে পাটকল শ্রমিকদের জনসভায় বক্তৃতা শেষে তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়। ৭ জুন বঙ্গবন্ধু ও আটক নেতৃবৃন্দের মুক্তির দাবিতে সারাদেশে ধর্মঘট পালিত হয়। ধর্মঘটের সময় ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও টঙ্গীতে পুলিশের গুলিতে শ্রমিকসহ বেশ কয়েকজন নিহত হয়।


১৯৬৮ : ৩ জানুয়ারি পাকিস্তান সরকার বঙ্গবন্ধুকে এক নম্বর আসামি করে মোট ৩৫ জন বাঙালি সেনা ও সি এস পি অফিসারের বিরুদ্ধে পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ এনে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে। ১৭ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে জেল থেকে মুক্তি দিয়ে পুনরায় জেল গেট থেকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা সেনানিবাসে আটক রাখা হয়। বঙ্গবন্ধুসহ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার অভিযুক্ত আসামিদের মুক্তির দাবিতে সারাদেশে বিক্ষোভ শুরু হয়।


১৯ জুন ঢাকা সেনানিবাসে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামিদের বিচার কার্য শুরু হয়।


১৯৬৯ : ৫ জানুয়ারি ৬ দফাসহ ১১ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার ও বঙ্গবন্ধুর মুক্তির দাবিতে দেশব্যাপী ছাত্র আন্দোলন শুরু করে। এই আন্দোলন গণআন্দোলনে পরিণত হয়। পরে ১৪৪ ধারা ও কার্ফু ভঙ্গ, পুলিশ-ইপিআর-এর গুলিবর্ষণ, বহু হতাহতের মধ্য দিয়ে গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নিলে আইয়ুব সরকার ১ ফেব্রুয়ারি গোলটেবিল বৈঠকের আহ্বান জানায় এবং বঙ্গবন্ধুকে প্যারোলে মুক্তিদান করা হবে বলে ঘোষণা দেয়া হয়। 

বঙ্গবন্ধু প্যারোলে মুক্তিদান প্রত্যাখ্যান করেন। ২২ ফেব্রুয়ারি জনগণের অব্যাহত চাপের মুখে কেন্দ্রীয় সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধুসহ অন্যান্য আসামিকে মুক্তি দানে বাধ্য হয়। ২৩ ফেব্রুয়ারি রেসকোর্স (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) ময়দানে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধুকে সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। 

প্রায় ১০ লাখ ছাত্র জনতার এই সংবর্ধনা সমাবেশে শেখ মুজিবুর রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। বঙ্গবন্ধু রেসকোর্স ময়দানের ভাষণে ছাত্র সমাজের ১১ দফা দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানান।


১০ মার্চ বঙ্গবন্ধু রাওয়ালপিন্ডিতে আইয়ুব খানের গোলটেবিল বৈঠকে যোগদান করেন। বঙ্গবন্ধু গোলটেবিল বৈঠকে আওয়ামী লীগের ৬ দফা ও ছাত্র সমাজের ১১ দফা দাবি উপস্থাপন করে বলেন, ‘গণ-অসন্তোষ নিরসনে ৬ দফা ও ১১ দফার ভিত্তিতে আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন প্রদান ছাড়া আর কোন বিকল্প নেই।’ পাকিস্তানে শাসকগোষ্ঠী ও রাজনীতিবিদরা বঙ্গবন্ধুর দাবি অগ্রাহ্য করলে ১৩ মার্চ তিনি গোলটেবিল বৈঠক ত্যাগ করেন এবং ১৪ মার্চ ঢাকায় ফিরে আসেন। ২৫ মার্চ জেনারেল ইয়াহিয়া খান সামরিক শাসন জারির মাধ্যমে ক্ষমতাসীন হন। ২৫ অক্টোবর বঙ্গবন্ধু তিন সপ্তাহের সাংগঠনিক সফরে লন্ডন গমন করেন। 

৫ ডিসেম্বর শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আওয়ামী লীগের আলোচনা সভায় বঙ্গবন্ধু পূর্ব বাংলার নামকরণ করেন ‘বাংলাদেশ’। তিনি বলেন, “একসময় এদেশের বুক হইতে, মানচিত্রের পৃষ্ঠা হইতে ‘বাংলা’ কথাটির সর্বশেষ চিহ্নটুকুও চিরতরে মুছিয়া ফেলার চেষ্টা করা হইয়াছে। … একমাত্র ‘বঙ্গোপসাগর’ ছাড়া আর কোন কিছুর নামের সঙ্গে ‘বাংলা’ কথাটির অস্তিত্ব খুঁজিয়া পাওয়া যায় নাই। … জনগণের পক্ষ হইতে আমি ঘোষণা করিতেছি- আজ হইতে পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশটির নাম ‘পূর্ব পাকিস্তানে’র পরিবর্তে শুধুমাত্র ‘বাংলাদেশ’।


১৯৭০ : ৬ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু পুনরায় আওয়ামী লীগ সভাপতি নির্বাচিত হন। ১ এপ্রিল আওয়ামী লীগ কার্যকরী পরিষদের সভায় নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ৭ জুন রেসকোর্স ময়দানের জনসভায় বঙ্গবন্ধু ৬ দফার প্রসঙ্গ আওয়ামীলীগ কে নির্বাচিত করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। ১৭ সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধু তার দলের নির্বাচনী প্রতীক হিসেবে ‘নৌকা’ প্রতীক পছন্দ করেন এবং ঢাকার ধোলাইখালে প্রথম নির্বাচনী জনসভার মধ্য দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন। 

২৮ অক্টোবর তিনি জাতির উদ্দেশ্যে বেতার-টিভি ভাষণে ৬ দফা বাস্তবায়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের জয়যুক্ত করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আবেদন জানান। ১২ নভেম্বরের গোর্কিতে উপকূলীয় এলাকার ১০ লক্ষ মানুষের প্রাণহানি ঘটলে বঙ্গবন্ধু নির্বাচনী প্রচারণা বাতিল করে দুর্গত এলাকায় চলে যান এবং আর্ত-মানবতার প্রতি পাকিস্তানি শাসকদের উদাসীনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। তিনি গোর্কি উপদ্রুত মানুষের ত্রাণের জন্য বিশ্ববাসীর প্রতি আহ্বান জানান। 

৭ ডিসেম্বরে সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। আওয়ামী লীগ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে জাতীয় পরিষদের ১৬৯টি আসনের মধ্যে ১৬৭টি আসন এবং প্রাদেশিক পরিষদের ৩১০টি আসনের মধ্যে ৩০৫টি আসন লাভ করে।


১৯৭১ : ৩ জানুয়ারি রেসকোর্সের জনসভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব জনপ্রতিনিধিদের শপথ গ্রহণ পরিচালনা করেন। আওয়ামী লীগ দলীয় সদস্যরা ৬ দফার ভিত্তিতে শাসনতন্ত্র রচনা এবং জনগণের প্রতি আনুগত্য থাকার শপথ গ্রহণ করেন। 

৫ জানুয়ারি তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানে সর্বাধিক আসন লাভকারী পাকিস্তান পিপলস পার্টির নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টো কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের সাথে কোয়ালিশন সরকার গঠনে তার সম্মতির কথা ঘোষণা করেন। জাতীয় পরিষদ এক বৈঠকে বঙ্গবন্ধু পার্লামেন্টারি দলের নেতা নির্বাচিত হন। ২৮ জানুয়ারি জুলফিকার আলী ভুট্টো বঙ্গবন্ধুর সাথে আলোচনার জন্য ঢাকায় আসেন। তিনদিন বৈঠকের পর আলোচনা ব্যর্থ হয়ে যায়। 

১৩ ফেব্রুয়ারি প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ৩ মার্চ ঢাকায় জাতীয় পরিষদের বৈঠক আহ্বান করেন। ১৫ ফেব্রুয়ারি ভুট্টো ঢাকায় জাতীয় পরিষদের বৈঠক বয়কটের ঘোষণা দিয়ে দুই প্রদেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ দুই দলের প্রতি ক্ষমতা হস্তান্তর করার দাবি জানান।


১৬ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু এক বিবৃতিতে জনাব ভুট্টোর দাবির তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ‘ভুট্টো সাহেবের দাবি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। ক্ষমতা একমাত্র সংখ্যাগরিষ্ঠ দল আওয়ামী লীগের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। ক্ষমতার মালিক এখন পূর্ব বাংলার জনগণ।’


১ মার্চ ইয়াহিয়া খান অনির্দিষ্টকালের জন্য জাতীয় পরিষদের বৈঠক স্থগিতের ঘোষণা দিলে সারা বাংলায় প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। বঙ্গবন্ধুর সভাপতিত্বে আওয়ামী লীগ কার্যকরী পরিষদের জরুরি বৈঠকে ২ মার্চ দেশব্যাপী হরতাল আহ্বান করা হয়। ৩ মার্চ সারা বাংলায় হরতাল পালিত হবার পর বঙ্গবন্ধু অবিলম্বে ক্ষমতা হস্তান্তর করার জন্য প্রেসিডেন্টের প্রতি দাবি জানান।


৭ মার্চ রেসকোর্সের জনসমুদ্র থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষণা করেন ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, জয় বাংলা’। ঐতিহাসিক ভাষণে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতিকে শৃঙ্খল মুক্তির আহ্বান জানিয়ে ঘোষণা করেন, “রক্ত যখন দিয়েছি রক্ত আরও দেবো। 

এদেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাআল্লাহ্। … প্রত্যেকে ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোল। যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে মোকাবেলা করতে হবে।” শত্রুর বিরুদ্ধে গেরিলা যুদ্ধের প্রস্তুতি নেবার আহ্বান জানান। বঙ্গবন্ধু ইয়াহিয়া খানের সরকারের বিরুদ্ধে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন। একদিকে রাষ্ট্রপতি জেনারেল ইয়াহিয়ার নির্দেশ যেত অপরদিকে ধানমন্ডি ৩২ নং সড়ক থেকে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ যেত, বাংলার মানুষ বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ মেনে চলতেন। 

অফিস-আদালত, ব্যাংক-বীমা, স্কুল-কলেজ, গাড়ি, শিল্প-কারখানা সবই বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ মেনেছে। ইয়াহিয়ার সব নির্দেশ অমান্য করে অসহযোগ আন্দোলনে বাংলার মানুষের সেই অভূতপূর্ব সাড়া ইতিহাসে বিরল ঘটনা। মূলত ৭ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ বাংলাদেশ স্বাধীন দেশ হিসেবে বঙ্গবন্ধুই রাষ্ট্রপরিচালনা করেছেন। ১৬ মার্চ ঢাকায় ক্ষমতা হস্তান্তর প্রসঙ্গ মুজিব-ইয়াহিয়া বৈঠক শুরু হয়। আলোচনার জন্য জনাব ভুট্টো ও ঢাকায় আসেন। 

২৪ মার্চ পর্যন্ত ইয়াহিয়া-মুজিব-ভুট্টো আলোচনা হয়। ২৫ মার্চ আলোচনা ব্যর্থ হবার পর সন্ধ্যায় ইয়াহিয়ার ঢাকা ত্যাগ। ২৫ মার্চ দিবাগত রাতে নিরীহ নিরস্ত্র বাঙালির ওপর পাকিস্তান সেনাবাহিনী ঝাঁপিয়ে পড়ে। আক্রমণ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পিলখানা রাইফেল সদর দফতর ও রাজারবাগ পুলিশ হেড কোয়ার্টার। বঙ্গবন্ধু ২৫শে মার্চ রাত ১২টা ২০ মিনিটে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন :


“ This may be my last message, from today Bangladesh is independent. I call upon the people of Bangladesh wherever you might be and with whatever you have, to resist the army of occupation to the last. Your fight must go on until the last soldier of the pakistan occupation army is expelled from the soil of Bangladesh. Final victory is ours.”


[অনুবাদ : ‘সম্ভবতঃ এটাই আমার শেষ বার্তা, আজ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন। আমি বাংলাদেশের জনসাধারণকে আহ্বান জানাচ্ছি তোমরা যে যেখানেই আছ এবং যাই তোমাদের হাতে আছে তার দ্বারাই শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দখলদার সৈন্যবাহিনীকে প্রতিরোধ করতে হবে। যতক্ষণ না পাকিস্তান দখলদার বাহিনীর শেষ ব্যক্তি বাংলাদেশের মাটি থেকে বিতাড়িত হবে এবং যতক্ষণ পর্যন্ত না চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হবে, তোমাদের যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হবে।’] এই ঘোষণা বাংলাদেশের সর্বত্র ট্রান্সমিটারে প্রেরিত হয়।


এর সঙ্গে সঙ্গেই তিনি বাংলায় নিম্নলিখিত একটি ঘোষণা পাঠান:


“পাকিস্তান সেনাবাহিনী অতর্কিতভাবে পিলখানা ইপিআর ঘাঁটি, রাজারবাগ পুলিশ লাইন আক্রমণ করেছে এবং শহরের রাস্তায় রাস্তায় যুদ্ধ চলছে, আমি বিশ্বের জাতিসমূহের কাছে সাহায্যের আবেদন করছি। আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা বীরত্বের সঙ্গে মাতৃভূমি মুক্ত করার জন্য শত্রু দের সঙ্গে যুদ্ধ করছে। সর্বশক্তিমান আল্লাহর নামে আপনাদের কাছে আমার আবেদন ও আদেশ দেশকে স্বাধীন করার জন্য শেষ রক্তবিন্দু থাকা পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যান। 

আপনাদের পাশে এসে যুদ্ধ করার জন্য পুলিশ, ইপিআর, বেঙ্গল রেজিমেন্ট ও আনসারদের সাহায্য চান। কোন আপোষ নাই। জয় আমাদের হবেই। পবিত্র মাতৃভূমি থেকে শেষ শত্রু কে বিতাড়িত করুন। সকল আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী এবং অন্যান্য দেশপ্রেমিক প্রিয় লোকদের কাছে এ সংবাদ পৌঁছে দিন। আল্লাহ আপনাদের মঙ্গল করুন। জয় বাংলা।”


হানাদার পাকিস্তান বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ যুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য বাঙালি সামরিক ও বেসামরিক যোদ্ধা, ছাত্র, শ্রমিক, কৃষকসহ সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানান। বঙ্গবন্ধুর এই আহ্বান বেতার যন্ত্র মারফত তাৎক্ষণিক-ভাবে বিশেষ ব্যবস্থায় সারাদেশে পাঠানো হয়। রাতেই এই বার্তা পেয়ে চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও যশোর সেনানিবাসে বাঙালি জওয়ান ও অফিসাররা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। 

চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র থেকে বঙ্গবন্ধুর ঘোষণা প্রচার করা হয় গভীর রাতে। স্বাধীনতার ঘোষণা দেবার অপরাধে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ১-১০ মিনিটে বঙ্গবন্ধুকে ধানমন্ডির ৩২ নং বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা সেনানিবাসে নিয়ে যায় এবং ২৬ মার্চ তাকে বন্দী অবস্থায় পাকিস্তান নিয়ে যাওয়া হয়। ২৬শে মার্চ জেঃ ইয়াহিয়া এক ভাষণে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে বঙ্গবন্ধুকে দেশদ্রোহী বলে আখ্যায়িত করে।


২৬ মার্চ চট্টগ্রাম স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা এম এ হান্নান বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণাপত্রটি পাঠ করেন। ১০ এপ্রিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি করে বিপ্লবী সরকার গঠিত হয়। ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে (মুজিবনগর) বাংলাদেশ সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। 

বঙ্গবন্ধু রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলাম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি এবং তাজউদ্দিন আহমদ প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের পরিচালনায় মুক্তিযুদ্ধ শেষে ১৬ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তান বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জিত হয়। বাংলাদেশ লাভ করে স্বাধীনতা। 

তার আগে ৭ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের লায়ালপুর সামরিক জেলে বঙ্গবন্ধুর গোপন বিচার করে তাকে দেশদ্রোহী ঘোষণা করে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়। বিভিন্ন দেশ ও বিশ্বের মুক্তিকামী জনগণ বঙ্গবন্ধুর জীবনের নিরাপত্তার দাবি জানায়। ২৭ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে জাতির জনক রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানকে অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি প্রদানের দাবি জানানো হয়। 

ভারত ও সোভিয়েত ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর মুক্তির জন্য পাকিস্তান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি। তিনি বাংলাদেশের স্থপতি, কাজেই পাকিস্তানের কোনো অধিকার নেই তাকে বন্দী করে রাখার। বাংলাদেশ ইতিমধ্যে বহু রাষ্ট্রের স্বীকৃতি লাভ করেছে।


১৯৭২ : ৮ জানুয়ারি পাকিস্তান সরকার আন্তর্জাতিক চাপে বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দেয়। জুলফিকার আলী ভুট্টো বঙ্গবন্ধুর সাথে সাক্ষাৎ করেন। সেদিনই বঙ্গবন্ধুকে ঢাকার উদ্দেশ্যে লন্ডন পাঠান হয়। ৯ জানুয়ারি লন্ডনে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হীথের সাথে সাক্ষাৎ হয়। লন্ডন থেকে ঢাকা আসার পথে বঙ্গবন্ধু দিল্লি−তে যাত্রা বিরতি করেন। বিমানবন্দরে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভি. ভি. গিরি ও প্রধানমন্ত্রী মিসেস ইন্দিরা গান্ধী বঙ্গবন্ধুকে স্বাগত জানান।


জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ১০ জানুয়ারি ঢাকায় পৌঁছলে তাকে অবিস্মরণীয় সংবর্ধনা জ্ঞাপন করা হয়। বঙ্গবন্ধু বিমান বন্দর বন্দর থেকে সরাসরি রেসকোর্স ময়দানে গিয়ে লক্ষ জনতার সমাবেশ থেকে অশ্রুসিক্ত নয়নে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন। ১২ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ৬ ফেব্রুয়ারি ভারত সরকারের আমন্ত্রণে তিনি ভারত যান। 

২৪ বছর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বঙ্গবন্ধুর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে তাকে আজীবন সদস্যপদ প্রদান করেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি তিনি সোভিয়েত ইউনিয়ন সফরে যান। ১২ মার্চ বঙ্গবন্ধুর অনুরোধে ভারতীয় মিত্র বাহিনী বাংলাদেশ ত্যাগ করে। ১ মে তিনি তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির ঘোষণা দেন। ৩০ জুলাই লন্ডনে বঙ্গবন্ধুর পিত্তকোষে অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর লন্ডন থেকে তিনি জেনেভা যান। 

১০ অক্টোবর বিশ্ব শান্তি পরিষদ বঙ্গবন্ধুকে ‘জুলিও কুরী’ পুরস্কারে ভূষিত করে। ৪ নভেম্বর বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের প্রথম সাধারণ নির্বাচনের তারিখ (৭ মার্চ ১৯৭৩) ঘোষণা করেন। ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয় খেতাব প্রদানের কথা ঘোষণা করেন। ১৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশের প্রথম সংবিধানে বঙ্গবন্ধু স্বাক্ষর করেন। 

১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হয়। প্রশাসনিক ব্যবস্থার পুনর্গঠন, সংবিধান প্রণয়ন, এক কোটি মানুষের পুনর্বাসন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষা ব্যবস্থার সম্প্রসারণ, শিক্ষার্থীদের জন্য প্রাথমিক স্কুল পর্যন্ত বিনামূল্যে এবং মাধ্যমিক শ্রেণী পর্যন্ত নামমাত্র মূল্যে পাঠ্যপুস্তক সরবরাহ, মদ, জুয়া, ঘোড়দৌড়সহ সমস্ত ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ড কার্যকর-ভাবে নিষিদ্ধকরণ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড পুনর্গঠন, ১১০০০ প্রাথমিক স্কুল প্রতিষ্ঠাসহ ৪০,০০০ প্রাথমিক স্কুল সরকারীকরণ, দুঃস্থ মহিলাদের কল্যাণের জন্য নারী পুনর্বাসন সংস্থা, মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন, ২৫ বিঘা পর্যন্ত জমির খাজনা মাফ, বিনামূল্যে/ স্বল্পমূল্যে কৃষকদের মধ্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ,


পাকিস্তানিদের পরিত্যক্ত ব্যাংক, বীমা ও ৫৮০টি শিল্প ইউনিটের জাতীয়করণ ও চালু করার মাধ্যমে হাজার হাজার শ্রমিক-কর্মচারীর কর্মসংস্থান, ঘোড়াশাল সার কারখানা, আশুগঞ্জ কমপ্লেক্স এর প্রাথমিক কাজ ও অন্যান্য নতুন শিল্প স্থাপন, বন্ধ শিল্প-কারখানা চালুকরণসহ অন্যান্য সমস্যার মোকাবেলা করে একটি সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে অর্থনৈতিক অবকাঠামো তৈরি করে দেশকে ধীরে ধীরে একটি সমৃদ্ধিশালী রাষ্ট্রে পরিণত করার প্রয়াস চালানো হয়। অতি অল্প সময়ে প্রায় সব রাষ্ট্রের স্বীকৃতি আদায় ও জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ ছিল বঙ্গবন্ধু সরকারের উল্লেখযোগ্য সাফল্য।


১৯৭৩ : জাতীয় সংসদের প্রথম নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগের ২৯৩ আসন লাভ। ৩ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগ, সিপিবি ও ন্যাপের সমন্বয়ে ঐক্য-ফ্রন্ট গঠিত। ৬ সেপ্টেম্বর জোটনিরপেক্ষ আন্দোলনের শীর্ষ সম্মেলনের যোগদানের জন্য বঙ্গবন্ধু আলজেরিয়া যান। ১৭ অক্টোবর তিনি জাপান সফর করেন।


১৯৭৪ : ২২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশকে পাকিস্তানের স্বীকৃতি দান। ২৩ ফেব্রুয়ারি ইসলামী সম্মেলন সংস্থা (ওআইসি) এর শীর্ষ সম্মেলনে যোগদানের উদ্দেশ্যে বঙ্গবন্ধু পাকিস্তান গমন করেন। ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলায় ভাষণ দেন।


১৯৭৫ : ২৫ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন এবং বঙ্গবন্ধুর রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ। ২৪ ফেব্রুয়ারি দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে জাতীয় দল বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ গঠন। বঙ্গবন্ধু ২৫ ফেব্রুয়ারি এই জাতীয় দলে যোগদানের জন্য দেশের সকল রাজনৈতিক দল ও নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান। 

বিদেশী সাহায্যের উপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে বাঙালি জাতিকে আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেন। তাই স্বাবলম্বিতা অর্জনের লক্ষ্যে অর্থনৈতিক নীতিমালাকে নতুনভাবে ঢেলে সাজান। স্বাধীনতাকে অর্থবহ করে মানুষের আহার, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষা ও কাজের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে দ্বিতীয় বিপ্ল−বের কর্মসূচি ঘোষণা দেন যার লক্ষ্য ছিল- দুর্নীতি দমন; ক্ষেতে খামারে ও কলকারখানায় উৎপাদন বৃদ্ধি; জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ এবং জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা। 

এই লক্ষ্যে দ্রুত অগ্রগতি সাধিত করবার মানসে ৬ জুন বঙ্গবন্ধু সকল রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী, বুদ্ধিজীবী মহলকে ঐক্যবদ্ধ করে এক মঞ্চ তৈরি করেন, যার নাম দেন বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। বঙ্গবন্ধু এই দলের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।


সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে অর্থনৈতিক মুক্তির সংগ্রামে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে অভূতপূর্ব সাড়া পান। অতি অল্প সময়ের মধ্যে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি হতে শুরু করে। উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। চোরাকারবারি বন্ধ হয়। দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার আওতায় চলে আসে। নতুন আশার উদ্দীপনা নিয়ে স্বাধীনতার সুফল মানুষের ঘরে পৌঁছিয়ে দেবার জন্য দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে অগ্রসর হতে শুরু করে। কিন্তু মানুষের সে সুখ বেশি দিন স্থায়ী হয় না।


১৫ আগস্টের ভোরে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বাংলাদেশের স্থপতি বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিজ বাসভবনে সেনাবাহিনীর কতিপয় উচ্চাভিলাষী অফিসার বিশ্বাস ঘাতকের হাতে নিহত হন। 

সেদিন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী মহীয়সী নারী বেগম ফজিলাতুন্নেছা, বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ পুত্র মুক্তিযোদ্ধা লে. শেখ কামাল, পুত্র লে. শেখ জামাল, কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেল, দুই পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল, বঙ্গবন্ধুর ভাই শেখ নাসের, ভগ্নীপতি ও কৃষিমন্ত্রী আবদুর রব সেরনিয়াবাত ও তার কন্যা বেবি সেরনিয়াবাত, আরিফ সেরনিয়াবাত, দৌহিত্র সুকান্ত আবদুল্লাহ বাবু, ভ্রাতুষ্পুত্র শহীদ সেরনিয়াবাত, বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে যুবনেতা ও সাংবাদিক শেখ ফজলুল হক মনি ও তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনি, বঙ্গবন্ধুর নিরাপত্তা অফিসার কর্নেল জামিল আহমেদ এবং ১৪ বছরের কিশোর আবদুল নঈম খান রিন্টুসহ পরিবারের ১৬ জন সদস্য ও আত্মীয়স্বজনকে ঘাতকরা হত্যা করে।


১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট মহামানব বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শহীদ হবার পর দেশে সামরিক শাসন জারি হয়। গণতন্ত্রকে হত্যা করে মৌলিক অধিকার কেড়ে নেয়া হয়। শুরু হয় হত্যা, ক্যু ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি। কেড়ে নেয়া হন জনগণের ভাত ও ভোটের অধিকার।


বিশ্বে মানবাধিকার রক্ষার জন্য হত্যাকারীদের বিচারের বিধান রয়েছে কিন্তু বাংলাদেশে জাতির জনকের আত্ম-স্বীকৃত খুনিদের বিচারের হাত থেকে রেহাই দেবার জন্য এক সামরিক অধ্যাদেশ জারি করা হয়। জেনারেল জিয়াউর রহমান সামরিক শাসনের মাধ্যমে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স নামে এক কুখ্যাত কালো আইন সংবিধানে সংযুক্ত করে সংবিধানের পবিত্রতা নষ্ট করে। খুনিদের বিদেশে অবস্থিত বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করে।


১৯৯৬ সালের ২৩ জুন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর জাতীয় সংসদ কুখ্যাত ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স বাতিল করে। ১৫ আগস্ট জাতির জীবনে একটি কলঙ্কময় দিন। এই দিবসটি জাতীয় শোক দিবস হিসেবে বাঙালি জাতি পালন করে।


লেখক ও তথ্য সংগ্রহকারী
শিব্বির আহমেদ রানা









, , , 

আশুলিয়ায় বেতন বোনাসের দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভ

সেবা ডেস্ক: আশুলিয়ায় একটি পোশাক কারখানায় বকেয়া বেতন ও ঈদ বোনাসের দাবিতে বিক্ষোভ করে। বিক্ষোভে বিশৃঙ...

গোলাপগঞ্জে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষঃ আহত ৭

গোলাপগঞ্জ (সিলেট) প্রতিনিধিঃ গোলাপগঞ্জে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ঘঠে আহত হয়...




times24

দেশ বিরোধী ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে বাঁশখালীতে আওয়ামীলীগের প্রতিবাদ সমাবেশ

দেশবিরোধী চক্রান্ত – ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে  কালীপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, তাঁতিলীগ,শ্রমিক লীগ ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠন...