মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২১

সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়ে যুবসমাজ যতটা নষ্ট হয়, তারচেয়েও বেশি নষ্ট হয় ক্রমবর্ধমান বেকারত্বে

৭১'এর পরবর্তী আজকের বাংলাদেশ, নিঃসন্দেহে বাঙালি জাতির এগিয়ে যাওয়ার প্রতিচ্ছবি, এই যেন যোজন যোজন তারতম্যে পরিপূর্ণ ১৯৭১ Vs ২০২১! বাঙ্গালী জাতি বীরের জাতি, ছুটছে অবিরাম, শত ষড়যন্ত্র যাদের দমিয়ে রাখতে পারেনি, বাঙ্গালী সময়ের সাথে সাথে ঠিকই নিজের জাত ছিনিয়েছে বিশ্ব দরবারে। ৫২-তে যেই স্বপ্ন বুনেছিলো সালাম, রফিক, জব্বার! সেই স্বপ্নের পরিপূর্ণতা অর্জনে জাতি

যতবারই হোটচ খেয়েছে, ততবারই ঘুরে দাড়িয়েছে, হাল ধরেছে, কখনো হাসু আপা, কখনো পিতা মুজিবুর। স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের উন্নয়নের পরিসংখ্যানই জানান দিচ্ছে, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, আর আমরাও ক্রমেই এক নিষ্ঠুর সময়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি! যেখানে মানবিকতা, নৈতিকতা, মূল্যবোধ, দয়া, মমতা, চক্ষুলজ্জ্বা এসব শব্দের কোনো অস্তিত্বই নেই! প্রতিস্থাপনের এই খেলায় তার জায়গা দখল করে নিয়েছে অনৈতিকতা, অমানবিকতা, নিষ্ঠুরতা, স্বার্থপরতা, জিঘাংসা, হিংসা, বিদ্বেষ, ধর্ষন, কিংবা টাকার বিনিময়ে মানুষ হত্যাসহ জাতীয় সব নেতিবাচক শব্দের কালো হাত।
          আজকাল খবরের কাগজ খুললেই এমন সব খবরের মুখোমুখি হতে হয়, যা দেখলে যে কোনো মানুষের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়। গত ক'দিন পূর্বে বাঁশখালী পৌরসভাস্থ জলদি মনচুরিয়া বাজারে প্রকাশ্য দিবালোকেও সন্ত্রাসী হামলায় নিহত দুই ছোট ভাইয়ের ক্ষতবিক্ষত দেহ গুলো দেখে বাঁশখালীর কমবেশি প্রত্যেকটা মানুষের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছে। মানুষ স্বার্থের প্রয়োজনে কতটা হিংস্র হতে পারে, তা এই হত্যাকান্ডের পরতে পরতে লেখা হয়ে থাকবে। 

তলাবিহীন ঝুড়িতে উপনীত হওয়া বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রসংশা যেখানে জাত শত্রু পাকিস্তানীরাও করে, সেখানে সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়ের কারণে দেশের দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ প্রতিনিয়ত হতাশায় ভোগে। অতীত যেমনটাই হোক, বর্তমান সময়ের সামাজিক অপরাধ সমুহের মাত্রা এতোটাই উর্দ্ধমুখী যে, এখনই তার লাগাম টেনে ধরা না'গেলে আগামী ১০-১২ বছরে সামাজিক অপরাধ এতোটাই ভয়াবহ যে, মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে সামাজিক অপরাধে লিপ্ত হবে, আর আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার মাঝে জম্মের স্বার্থকতা অনুভব করবে। সময়ের বিপরীতে দ্বিগুণ হবে অর্থের প্রতি মানুষের লোভলালসা, অসম প্রতিযোগিতা। বাড়বে বিষণ্ণতা' বৃদ্ধি পাবে মাদকাসক্তির প্রবনতা, সৃষ্টি হবে সাম্প্রদায়িক মনোভাব আর দাঙ্গা হাঙ্গামার পায়তারা ইত্যাদি। 

আমি মনে করি সামাজিক অপরাধের পেছনে শিক্ষার অভাব ততটা দায়ী নয়, যতটা বিষণ্ণতা দায়ী। ৫০বছর পূর্বে বাংলাদেশে শিক্ষার হার ২৫% চেয়ে বেশি নাহলেও মানবতা, চক্ষুলজ্জা, ন্যায়পরায়রনতা, মনুষ্যত্ব,  সম্প্রতি, দেশপ্রেম আমাদের চেয়ে শতগুণ বেশি ছিলো। একদা দেশের মোট জনসংখ্যার একটি অংশ দরিদ্র সীমার নিচে বসবাস করতো, আর এখন জনসংখ্যার একটি অংশ দেশ পেরিয়ে বিদেশ গিয়ে অর্থ দ্বারা ফুর্তি করে। কাজেই শিক্ষা কিংবা অর্থের অভাবে যুবসমাজ অতটা নষ্ট হয় না, যতটা অলস সময়ের কারুকাজ দ্বারা আক্রান্ত হয়।

💧যেমনটি গত ৩/৪ দিন পূর্বে বাঁশখালী পৌর সদরে এমন কয়েকটি জঘন্য অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, যা বরাবরই কল্পনাতীত। বাঁশখালী নবনির্মিত আদালত ভবন, এজলাস, স্টোর রুম, ভূমি অফিস, ম্যাজেষ্ট্রেট এর আবাসিক কোয়ার্টারসহ একরাতেই বাঁশখালীর সমস্ত সরকারি অফিসের তালা ভেঙে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামগ্রী আত্মসাৎ এর ঘটনায় জড়িতরা কখনো শিক্ষা কিংবা অর্থের অভাব দ্বারা আক্রান্ত ছিলো না, বরং এরা ছিলো অলস সময়ের কারুকাজ দ্বারা আক্রান্ত মস্তিষ্ক বিকৃত কিছু অমানুষ।
যারা কাউকে হেয় করার জন্য/ কারো ইমেজ নষ্ট করার জন্য সম্পূর্ণ পূর্বপরিকল্পিত পন্থায় ভাড়ায় চালিত হয়েছে।
🔥 সপ্তাহখানেক পূর্বে বাঁশখালী থানার গেইট বিপরীত পাশ্বে অর্থাৎ #মধুবন সংলগ্ন ভবনে স্ব-পরিবারে বসবাসরত এসআই মংগ এর বাসা ডাকাতি বলুন, কিংবা থানার ভিতর থেকে এসআই সুমন এর মোটরসাইকেল চুরি, কিংবা থানার দক্ষিণ পাশ্বে বেশ কিছু সম্ভ্রান্ত হিন্দু পরিবারের ঘরের দরজা ভেঙে ডাকাতি বলুন, সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত প্রত্যেকটা ঘটনাই উদ্দেশ্যপ্রণীত এবং পূর্বপরিকল্পিত।
তাছাড়া অনুমান যদি মিথ্যে না হয়, তাহলে তারও কিছু সময় পূর্বে সংঘটিত বাঁশখালীর জলদি, চাম্বল,নাপোড়ায় সাম্প্রদায়িক সহিংসতাও সম্পূর্ণ পূর্ব পরিকল্পিত এবং উদ্দেশ্যপ্রণীত, যার সঠিক এবং নিখুঁত তদন্ত হলে নিসন্দেহে ফেঁসে যাবে অসংখ্য মহাপুরুষ আর নাটের গুরুদ্বয়।

🖍️হঠাৎ করে বৃদ্ধি পাওয়া সামাজিক অপরাধ ও তারুণ্যের অবক্ষয়রোধে হয়তো শতভাগ কার্যকরি প্রতিষেধক নেই । তবে সামাজিক ও নৈতিকতা অবক্ষয়ের হাত থেকে বাঁচতে হলে সর্বাগ্রে প্রয়োজন সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি, ধর্মীয় অনুশাসনের অনুশীলন, পরমত সহিষ্ণুতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ জাগ্রত করাসহ সর্বক্ষেত্রে অশ্লীলতাকে বর্জন এর পাশাপাশি মরণব্যাধি অবক্ষয় থেকে জাতিকে বাঁচাতে হলে, এখনই বেকারত্বের লাগাম টানতে হবে, অলস মস্তিষ্ক যদি সয়তানের কারখানা হয়, তাহলেই অবশ্যই অবশ্যই বেকারত্বের তার সহজ শিকার।

বিঃদ্রঃ
দেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বৃদ্ধি না করে, অশিক্ষিত জনগনকে দক্ষ সম্পদে পরিনত করুন, শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড হতে পারে, তবে বেকারত্ব সুশিক্ষিত জাতির জন্যও অভিশাপ বটে ।

রবিবার, ২৫ জুলাই, ২০২১

কয়লাবিদ্যুৎ প্রকল্পে 'জনবল নিয়োগে বাঁশখালীবাসীর অগ্রাধিকার চাই

 প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের অপরুপ লীলাভূমি প্রিয় বাঁশখালীর উপকূলীয় অঞ্চল-জুড়ে আজ S.Alam এর অভয়ারণ্য,আধিপত্য।আধুনিক ও উন্নত তথ্য প্রযুক্তির যথোপযুক্ত ব্যবহারের সাথে S.Alam সংস্পর্শ,

অত্র জনপদের কাদামাটিকেই করেছে সোনায় পরিনত।

          যদিও সময়ের বিবর্তনে প্রিয় মাতৃভূমিতে'ই এস.আলম শক্ত শিকড় গেড়েছে। মাটি খনন করে টাকা বের করে আনছে।পাশ্ববর্তী উপজেলা থেকে জনবল এনে তা পরিস্কার করাচ্ছে! অথচ বাঁশখালীর জনবল নিয়োগে তারা বড্ড অপারগ।খুব বেশি জানতে ইচ্ছে করে,এই কোন স্বজনপ্রীতির রোষানলে পতিত প্রিয় বাঁশখালী'বাসীর আগামীর ভবিষ্যৎ...................

         যেখানে বাঁশখালীর উপকূলীয় অঞ্চলের প্রায় লক্ষাধিক লবণ চাষি' গন্ডামারায় নির্মাণাধীন কয়লা-প্রকল্পকে স্বাগত জানিয়ে' তাদের আয়-রোজগারের একমাত্র উৎস(লবণের মাট) S.Alam এর হাতে তুলে দিয়েছে। সেখানে প্রকল্প কতৃপক্ষের এইরূপ বৈষম্যমূলক দৃষ্টান্ত স্থাপন' আমাদের হৃদয়ের গহীনে ক্ষত সৃষ্টি করেছে।

        গন্ডামারায় প্রকল্প বাস্তবায়নে নিয়োজিত উর্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে আমি সবিনয়ে প্রশ্ন রাখলাম..............

কেন আপনারা বাঁশখালীর মাটি/উর্বর ভূমি ব্যবহারে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, আর বাঁশখালীর মানুষদের মূল্যায়নে একাধিক অজুহাত বা দ্বিধাবিভক্তির জম্ম দেন......?

        শুধু আমরাই নয়, সারা বাংলাদেশর মানুষ জানে বাঁশখালীতে নির্মাণাধীন কয়লা বিদ্যুৎ' প্রকল্পের পক্ষে বিপক্ষে কতখানি রক্ত ঝরেছে। শুধু জানে না এখানে কি পরিমাণ ভূমির মালিক তাদের ন্যার্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। কত গুলোর পরিবার তাদের একমাত্র আয়ের উৎস হারিয়ে হতাশায় ডুবে আছে? তবে বাঁশখালীতে S.Alam এর আগমনে একেবারে কারো ভাগ্য পরিবর্তন হয়নি, তা কিন্তু নয়।

         এস.আলমের সুদৃষ্টিতে অনেক ভূমিহীন সারথি-মহাসারথির (খাদক আর দালাল মহোদয়) জীবনে এসেছে নিয়ামক পরিবর্তন। মাত্রাতিরিক্ত অনিয়ম, দুর্নীতি আর লুটপাটের প্রভাবে ভূমির প্রকৃত মালিকদের অধিকার হনন হলেও, ভূমিহীন দালালরা হয়েছেন রাতারাতি কোটিপতি আর শিল্পপতির আসনে অধিষ্ঠিত।

             আর এটাই বাস্তব সত্য যে, এইসব খাদক বাবু'দের মহৎ কর্মকাণ্ডে কেবল একজনের জায়গা আরেকজনে বিক্রির নথি উন্মোচিত হয়নি। প্রতিষ্ঠিত হয়েছে দালালদের নিখুঁত কারচুপির ইতিহাসও। আছে ৬০০খানি জায়গা কিনে ১২০০খানি দখল নেওয়ার রেকর্ডও। অথচ এইরূপ শত সমস্যার পরও প্রিয় বাঁশখালীর সাধারণ মানুষ দেশের উন্নয়নের জন্য, জনগনের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য,তাদের উপর দিয়ে নীরবে বয়ে যাওয়া সব ধরনের অন্যায় অনিয়ম মাথা পেতে নিয়েছে।কিন্তু বিনিময় বলতে ওরা আজও যে লাউ, সে কদু।

            গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার নির্দেশে' মোতাবেক প্রকল্প কতৃপক্ষ উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাসরত প্রত্যেক পরিবারের অন্তত একজন সদস্যকে চাকরি দেওয়ার চূড়ান্ত আশ্বাস আর প্রকাশ্যে ঘোষণা দিলেও, তার বাস্তবায়ন আজও পরিলক্ষিত হয়নি। প্রকল্প কতৃপক্ষ তার অঙ্গীকার করা তো দূরের কথা, তাদের কাছে বাঁশখালীর মানুষ রোহিঙ্গাদের চেয়েও নিকৃষ্টতায় পরিনত হয়েছে।


         আমরা (বাঁশখালী'বাসী) এই প্রকল্পের বিপক্ষে নই।আমরা শুরু থেকে আজ পর্যন্ত প্রকল্প বাস্তবায়নের পক্ষে।আমরা প্রকল্পের অগ্রগতিতে প্রতিবন্ধকতা নয়, সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে চাই। আমরা ন্যার্য অধিকার চাই। আমরা বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি চাই। আমরা রাষ্ট্রের বোঝা হতে চাই না, সম্পদে পরিনত চাই।

   একবার থাকিয়ে দেখুন,

         এই বাঁশখালীতে বেকার সমস্যা কতখানি প্রকট।কেমন তার উর্ধগতি। অথচ এখানে নেই কোন বিকল্প কর্মসংস্থানের যথার্থ সুযোগ সুবিধা। নেই উদ্যোক্তা হওয়ারও আধু কোন সুঃব্যবস্থা.............

আমি বিশ্বাস করি,

        বাঁশখালীর গন্ডামারায় নির্মাণাধীন কয়লাবিদ্যুৎ প্রকল্পে 'জনবল নিয়োগে' সবার



আগে প্রাধান্য পাওয়া উচিৎ বাঁশখালীর বাসীর। এটা কিন্তু ভিক্ষা কিংবা অনুরোধ নয়। এটা আমাদের ন্যার্য অধিকার।

অতএব,

✔অনুগ্রহ করে সে অধিকার হনন করা থেকে আপনারাও বিরত থাকুন। না'হয় বর্তমান প্রজন্ম তার অস্তিত্বের প্রশ্নে একদফা কঠোর আন্দোলন যাবে।তাতে মোটেও সন্দেহ নেই............

times24

দেশ বিরোধী ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে বাঁশখালীতে আওয়ামীলীগের প্রতিবাদ সমাবেশ

দেশবিরোধী চক্রান্ত – ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে  কালীপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, তাঁতিলীগ,শ্রমিক লীগ ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠন...